বিমানের টিকিট বুকিংয়ে খরচ কমানোর কিছু কৌশল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ , ০৯:২৩ পিএম
বিমানের টিকিট বুকিংয়ে খরচ কমানোর কিছু কৌশল

বিমানের টিকিট বুকিং করা খুব সহজ একটা কাজ। যে কেউ ট্রাফিক জ্যামে বসে মোবাইলেই বিমানের টিকিট বুকিং করতে পারেন। সহজেই টিকেট বুকিং করা গেলেও স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা সস্তায় বুকিং করা কিন্তু সহজ কাজ নয়! এটা করতে কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হয়। এই পোস্টে এমনই কিছু কৌশল জানাবো আপনাদের।

আগে আগে বুকিং করুন
সস্তায় টিকিট বুকিং করার সবচেয়ে পুরনো ও কার্যকরী কৌশল হল আগে আগে টিকেট বুকিং করা। ভ্রমণের তারিখ যত কাছাকাছি চলে আসবে টিকিটের দাম তত বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই যতটা সম্ভব অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করুন। ভ্রমণ তারিখের অন্তত ৩০ দিন আগে টিকিট বুক করার চেষ্টা করুন। এতে করে যাত্রীর চাপ বাড়ার ফলে বিমান কর্তৃপক্ষের চাপিয়ে দেয়া বাড়তি ভাড়া আপনাকে গুনতে হবে না।

সাপ্তাহিক ছুটির দিন এড়িয়ে চলুন
ভ্রমণের জন্য বৃহস্পতি, শুক্র, শনি – এই বার গুলো সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত দিন। এসব দিনে অফিসিয়াল কাজে ভ্রমণের বেশ চাপ থাকে। তাই যারা কাজের জন্য নয়, ঘোরার জন্য টিকিট বুকিং করতে আগ্রহী তাদের ক্ষেত্রে সোম, মঙ্গল, বুধবারের টিকিট সংগ্রহ করা বেশি লাভজনক। সপ্তাহের এই মাঝামাঝি সময়ে টিকিটের দাম সবচেয়ে কম থাকে। অন্যদিকে ভোর রাতের ও দুপুর বেলার টিকিটের দাম সকালের ও সন্ধ্যার টিকিটের থেকে কম হয়ে থাকে। তাই সপ্তাহের কোন দিনে ও দিনের কোন সময় ভ্রমণ করবেন সেটার উপর নির্ভর করে বিমানের ভাড়ার তারতম্য হতে পারে। তাই ভ্রমণের দিন তারিখ নির্ধারণের সময় ওই দিনের বিমান টিকিটের মূল্যের ব্যাপারে খেয়াল রাখুন।

অফারের খোঁজ করুন
আজকাল প্রায়শই বিমান কোম্পানি গুলো নানান ধরনের মূল্যছাড়, ক্যাশ-ব্যাক ইত্যাদি অফার দিয়ে থাকে। নির্দিষ্ট ব্যাংকের ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড ব্যবহারকারী হলে বা নির্দিষ্ট মোবাইল কোম্পানির গ্রাহক হলে অথবা বিশেষ কোন ক্লাবের মেম্বার হলেও এধরনের ছাড় আপনি উপভোগ করতে পারেন। তাই টিকিট বুক করার পূর্বে এই ধরনের কোন অফার আছে কিনা, আপনার সাথে কোন অফার মিলে যায় কিনা তা খুঁজে দেখুন। এই ধরনের অফার সম্পর্কে জানতে ফেসবুক, টুইটার, বিমান সংস্থার ওয়েবসাইট এবং অনলাইন ভ্রমণ কোম্পানিগুলোতে নজর রাখতে পারেন।

অফেরতযোগ্য টিকিট কিনুন
যখন আপনি পুরোপুরি নিশ্চিত যে, আপনার ভ্রমণের তারিখ পরিবর্তিত হওয়ার আর কোন সম্ভাবনা নেই তখন আপনার উচিৎ অফেরতযোগ্য টিকিট কেনা। কারণ ফেরতযোগ্য টিকিটের তুলনায় অফেরতযোগ্য টিকিটের দাম কম হয়ে থাকে। ভ্রমণের তারিখ সম্পর্কে নিশ্চিত হলে অযথা বাড়তি খরচ করে ফেরতযোগ্য টিকিট কিনে তো কোন বিশেষ সুবিধা আপনি পাচ্ছেন না। তাই টাকা বাঁচানোই আপনার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত হবে।

রাউন্ড ট্রিপ টিকিট কিনুন
রাউন্ড ট্রিপ টিকিট বলতে বোঝায়, একই সাথে যাওয়ার ও ফেরার টিকিট করে ফেলা। যাওয়া আসা উভয় টিকিট একই সময় একই কোম্পানি থেকে কিনে ফেললে আপনি কিছু টাকা সাশ্রয় করতে পারবেন। আজকাল অনলাইনে টিকিট কেনা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। একই ওয়েবসাইট থেকে রাউন্ড ট্রিপ টিকিট কিনলে আপনি বিশেষ ছাড় পাবেন বলে ধরে নেয়া যায়।

ফ্রিকুয়েন্ট ফ্লাইয়ার প্রোগ্রাম
আজকাল অনেক এয়ারলাইন্স তাদের নিয়মিত যাত্রীদের জন্য বিশেষ প্রোগ্রাম চালু করেছে। এই প্রোগ্রামের অধীনে থাকা যাত্রীরা কোথাও ভ্রমণ করলেই তার নামে পয়েন্ট জমা হতে থাকে। এইসব পয়েন্ট ব্যবহার করে যাত্রীরা টিকিটের দামে ছাড় কিংবা অধিক পয়েন্ট থাকলে ফ্রি টিকিটও পেতে পারেন। তাই আপনি যদি নিয়মিত বিদেশ ভ্রমণ করে থাকেন তবে যেকোনো একটি এয়ারলাইন্সে ভ্রমণ করুন ও তাদের ফ্রিকুয়েন্ট ফ্লাইয়ার প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত হন।

বিলাসবহুল এয়ারলাইন্স ত্যাগ করুন
এয়ারলাইন্স দুই ধরনের মানুষের জন্য হয়ে থাকে। এক – যারা টাকার তোয়াক্কা করে না। শুধু বিলাসিতা পছন্দ করে। দুই – যারা বিলাসিতার দিকে নজর না দিয়ে ভ্রমণ খরচ কমানোর চিন্তা করে। আপনি যদি দ্বিতীয় শ্রেণীর হয়ে থাকেন এবং বিলাসিতার থেকে বেশি বেশি ভ্রমণ করার দিকে আপনার মনোযোগ থাকে তবে সস্তা এয়ারলাইন্স গুলো বেছে নিন। এতে আপনি কম খরচে ভ্রমণ করে আগামী ভ্রমণের জন্য কিছু টাকা বাঁচিয়ে রাখতে পারবেন।