বিমানে ভ্রমণের সময় যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারি ২০১৯ , ০৬:৪৩ পিএম
বিমানে ভ্রমণের সময় যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন

আপনার ফ্লাইট কোন কারণে বাতিল হয়ে গেছে? হারিয়ে গেছে লাগেজ? এখন কি করবেন? আপনার জন্যই বিমান ভ্রমণে ১৫টি দরকারি কৌশল তুলে ধরা হয়েছে এই পোস্টে।

১. ফ্লাইট বাতিল হলে
ফ্লাইট বাতিল হলে সাথে সাথেই চিন্তিত হয়ে পড়ার কোন কারণ নেই। সাধারণত ফ্লাইট বাতিল হলে বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা থাকে। টিকিটের লাইনে দাঁড়ানো অবস্থাতেই আপনার এয়ারলাইন্সকে ফোন করুন। ফ্লাইট বাতিল হলে বাতিল হওয়া ফ্লাইটের সব যাত্রী বিমানবন্দরে থাকা এজেন্টের কাছে বিকল্প টিকেট খুঁজতে শুরু করে। স্বাভাবিক ভাবেই ওই এজেন্টরা চাপের মুখে পড়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। আপনি যদি ফোনের মাধ্যমে কোন অনলাইন এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন তবে অন্য সবার আগেই আপনি বিকল্প টিকেট পেয়ে যাবেন।

২. বিমানবন্দরে বেশি ভিড় থাকলে
সরকারি ছুটির দিন গুলোতে বিমানবন্দরে থাকে উপচে পড়া ভিড়। ভিড়ের কথা মাথায় রেখেই ভ্রমণের পরিকল্পনা করুন। আপনি নিজে যখন ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, নিশ্চয়ই ৩-৪ দিন টানা ছুটির অপেক্ষায় থাকেন? ঠিক আপনার মত সবাই লম্বা ছুটির দিন পেলেই ভ্রমণে যায়। তাই সম্ভব হলে লম্বা ছুটির দিন এড়িয়ে ভ্রমণে যান। অথবা বিমানবন্দরে ভিড় মেনে নিয়েই ভ্রমণ করুন।

৩. ফ্লাইটের সিট ফুরিয়ে গেলে
অতিরিক্ত যাত্রীর ভিড় হলে অনেক সময় এয়ারলাইন্সগুলো অতিরিক্ত যাত্রীদের সিট ছেড়ে দেয়ার জন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিশেষ সুযোগ-সুবিধার ভাউচার দিয়ে থাকে। কখনই সিটের বদলে ভাউচারের প্রস্তাব পেলে সাথে সাথে লুফে নেবেন না। যাত্রীর ভিড় বাড়াব সাথে সাথে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে দাড়ায়। তখন এই ভাউচারের অফারের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। তাই স্বেচ্ছায় সিট ছেড়ে দেয়ার আগে শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। আর সম্ভব হলে ভাউচারের বদলে নগদ টাকা নেয়ার চেষ্টা করুন।

৪. দীর্ঘ যাত্রা বিরতি থাকলে
বিমান যাত্রা দীর্ঘ হলেই বিমানগুলো বিভিন্ন প্রয়োজনে বিরতি নেয়। যাকে বলা হয় লে-ওভার। অনেক ক্ষেত্রেই এই লে-ওভার দীর্ঘ সময়ের হয়। এই সময় আপনি টিকেট কেটে এয়ারপোর্ট লাউঞ্জে ঢুকে যেতে পারেন। এখানে আপনি পাবেন নাস্তার ব্যবস্থা, পানীয়, ওয়াইফাই, এমনকি ক্লান্তি কাটাতে গোসল করে নেয়ার ব্যবস্থাসহ নানা সুবিধা।

৫. ভাল সিট পেতে চাইলে
সময় বাঁচিয়ে আগে আগে বিমানবন্দরে ঢোকার একাধিক সুবিধা রয়েছে। আগে ঢুকলে অনেক সময় আপনি পছন্দ মত ফ্লাইট নির্বাচন করতে পারবেন। সুবিধাজনক সিটও বেছে নিতে পারবেন।

৬. মাথা ঘোরার সমস্যা থাকলে
শুধু বাস নয়, অনেকের প্লেনে উঠলেও মাথা ঝিমঝিম করে। এই সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান হয়তো দেয়া সম্ভব না। তবে কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব। মাঝের দিকের সিট গুলোতে বিমানের নড়াচড়া অপেক্ষাকৃত কম অনুভূত হয়। তাই এ ধরনের সমস্যা থাকলে প্রথম শ্রেণীর সিট বুক করুন। প্রথম শ্রেণীর সিট সাধারণত বিমানের মাঝের অংশে হয়।

৭. ব্যাগের আকৃতি ও ওজন
বিভিন্ন এয়ারলাইন্স বিভিন্ন পরিমাণের মালামাল নেয়ার অনুমতি দিয়ে থাকে। তাই আপনি যে এয়ারলাইন্সে ভ্রমণ করবেন বলে ঠিক করেছেন তাদের মালামাল সংক্রান্ত নীতিমালা জেনে নিন। সেই হিসেব করে ব্যাগ গুছান। বাসা থেকে বের হবার আগে ব্যাগের ওজন মেপে নিশ্চিত হয়ে নিন।

৮. ফ্লাইট সংক্রান্ত তথ্যের জন্য বিমানবন্দরের মনিটর দেখুন
আজকাল ফ্লাইট স্ট্যাটাস আপডেট জানার জন্য মুঠোফোনে সাবস্ক্রাইব করার সুবিধা রয়েছে। আপনার এয়ারলাইন্স কিছু সময় অন্তর অন্তর আপনাকে আপডেট পাঠাবে। তবে এটার উপর সম্পূর্ণ ভাবে নির্ভর করা ঠিক হবে না। বিমানবন্দরের মনিটরে নজর রাখুন। ফ্লাইট সংক্রান্ত তথ্যের জন্য এটাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উৎস।

৯. সিকিউরিটি চেক
বিশেষ ধরনের তরল পদার্থ, ধাতব ও ধারালো জিনিস, মাদক এমন অনেক জিনিস রয়েছে যা সাথে নিয়ে বিমানে উঠা নিষেধ। সিকিউরিটি চেকে পার হতে চাইলে এসব সম্পর্কে ধারণা রাখা জরুরি। নইলে হয়তো আপনার অনেক পছন্দের কিছু একটা ফেলে রেখেই বিমানে উঠতে হতে পারে। বিমানে যারা নিয়মিত ভ্রমণ করেন তাদের থেকে অথবা আপনার এয়ারলাইন্সের ওয়েবসাইট থেকে এই ব্যাপারে ভাল ধারণা পেতে পারেন।

১০. ইমিগ্রেশন ফরম পূরণ
বিমানের ভেতরে আপনাকে ইমিগ্রেশন ফরম পূরণ করতে হতে পারে। আর বিমানবালার পক্ষে হয়তো প্রত্যেকের জন্য একটি করে কলম দেয়া সম্ভব নাও হতে পারে। তাই সাথে একটা কলম রাখলে মন্দ কি?

১১. হাতব্যাগে কি রাখবেন?
জরুরি কাগজপত্র, ওষুধ, মোবাইল ফোন, চার্জারসহ এমন অনেক কিছুই হয়তো আপনার কাছে থাকবে যেটা বিমান থেকে নেমেই আপনার দরকার হবে। তাই এসব জিনিস আপনার হাতব্যাগে রাখুন। কারণ লাগেজ চেকিং থেকে বের হতে অনেক সময় দেরি হয়।

১২. সানব্লক ক্রিম
মাটি থেকে ৩৫,০০০ ফিট উপরে স্বাভাবিক ভাবেই রোদের তাপমাত্রা ও রেডিয়েশন অনেক বেশি। সমতল ভূমি থেকে বিমানের রোদ আপনার স্কিনের জন্য প্রায় ১০ গুন বেশি ক্ষতিকর। ক্ষতিকর এই রোদ থেকে বাঁচতে সানব্লক ক্রিম ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি।

১৩. টার্মিনালের বাথরুম
বিমানের উড্ডয়ন ও অবতরণের সময় যাত্রীদের সিট থেকে উঠা বারণ। এমনকি সিট বেল্ট পর্যন্ত খোলা নিষেধ। উড্ডয়ন ও অবতরণের জন্য অনেক সময় বিমানবন্দরে লম্বা লাইন লেগে থাকে। তাই লম্বা সময় ধরে যাত্রীদের সিট থেকে উঠতে দেয়া হয় না। এমতাবস্থায় বাথরুম ব্যবহারের দরকার পড়লে বেশ বিপদেই পড়তে হবে আপনাকে। তাই টার্মিনালে থাকা অবস্থায় বাথরুমের ঝামেলা শেষ করে বিমানে উঠতে পারলে পুরোটা ফ্লাইট নিশ্চিন্তে থাকা যেতে পারে।

১৪. টার্মিনালের পানীয়
বিমানের ভেতর কি ধরনের চা/কফি আপনাকে পরিবেশন করা হবে সেটার ব্যাপারে আপনি নিশ্চিত হতে পারবেন না। চা/কফির নেশা থাকলে একটা হাতে নিয়েই উঠে পরুন। চা/কফি না নিলেও একটা পানির বোতল অবশ্যই সাথে নিয়ে নিন।

১৫. লাগেজ হারিয়ে গেলে
এয়ারলাইন্সের ভুলে যদি আপনার লাগেজ হারিয়ে যায় তবে এর ক্ষতিপূরণ দিতে এয়ারলাইন্স বাধ্য। তাই আপনার লাগেজ হারিয়েছে বুঝতে পারা মাত্র অভিযোগ করুন। হারিয়ে যাওয়া লাগেজের জন্য অভিযোগ করার সময়সীমা বেঁধে দেয়া থাকে। এর আগেই আপনাকে অভিযোগ করতে হবে। লাগেজের ভেতর কি কি আছে তার ডকুমেন্ট থাকলে অবশ্যই সাথে রাখুন। লাগেজ হারিয়ে যাওয়ায় আপনার কি কি অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে তার ডকুমেন্টও সাথে রাখুন। ভাগ্য ভাল হলে সেগুলোর জন্যও আপনি ক্ষতিপূরণ পাবেন।