সাকিব-তামিমদের আক্ষেপ ঘোচানোর দিন


প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারি ২০২১ , ১১:১১ পিএম
সাকিব-তামিমদের আক্ষেপ ঘোচানোর দিন

সময় চলমান, সময় বহমান। সময়ের স্রোতে তরী ভাসালে তাকে আটকাবার সাধ্যি কার! সাধ্যি নেই, নেই পিছন ফিরে তাকানোর অবকাশ। তবে স্মৃতি বড় নিষ্ঠুর। আপনাকে ভাবায়, হাসায়, কাঁদায়, আক্ষেপের দীর্ঘশ্বাস ফেলতে বাধ্য করে। বাংলাদেশ ক্রিকেটের তেমন এক দীর্ঘশ্বাস আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। ৩০০ দিনের বেশি হলো এর স্বাদ থেকে বঞ্চিত টাইগার ক্রিকেটাররা। অবশেষে এসেছে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবালদের আক্ষেপ ঘোচানো দিন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ দল সবশেষ মাঠে নেমেছে গত বছরের মার্চে। ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজে। এরপর ঘরোয়া ক্রিকেট শুরু হলে করোনা প্রভাব বিস্তার করে। সেই মার্চের মাঝের দিক থেকে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকে দেশের ক্রিকেট। স্থগিত হয়ে যায় টাইগারদের আন্তর্জাতিক সূচিগুলো। এরপর শ্রীলঙ্কা সফর দিয়ে ক্রিকেটে ফেরার কথা ছিল লাল সবুজের প্রতিনিধিদের। তবে কোয়ারেন্টাইন জটিলতায় লঙ্কা সফর করে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা।

অক্টোবরে শ্রীলঙ্কা সফর না হওয়ায় ঘরোয়া ক্রিকেট শুরু করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। তিন দল নিয়ে আয়োজন করে বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ। জৈব সুরক্ষা বলয় মেনে সেই টুর্নামেন্ট সফলভাবে আয়োজনের পর পাঁচ দল নিয়ে মাঠে গড়ায় বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ। তাতেও শতভাগ পাশ মার্ক পেয়েছে টাইগার ক্রিকেট বোর্ড।

সফল সেই টুর্নামেন্টের কাগজপত্র দেখিয়ে করোনার মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে বাংলাদেশ। যাচাই-বাছাই আর পরিদর্শন শেষে সূচিতে কাটছাঁট করে শেষপর্যন্ত ৩ ম্যাচের ওয়ানডের সঙ্গে ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে এসেছে উইন্ডিজ ক্রিকেট দল। তবে করোনার দোহাই আর ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে মূল দলের ১২ ক্রিকেটার সফরে আসেনি। ঢাকায় এসে করোনা পরীক্ষা করানোর পর একজনের শরীরে ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

সব ছাপিয়ে বুধবার শুরু হচ্ছে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ। সিরিজের প্রথম ম্যাচে মিরপুরে মাঠে নামবে দু’দল। খেলা শুরু বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে ১১টায়। এই ম্যাচ দিয়ে প্রায় সাড়ে ১০ মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরবে বাংলাদেশ। এই প্রত্যাবর্তনটা তামিমদের কাছে যেমন, সাকিবের কাছে কিছুটা হলেও ভিন্ন।

২০১৯ সালে জুয়াড়ির দেওয়া প্রস্তাব গোপন করার দায়ে সাকিবকে নিষিদ্ধ করে আইসিসি। তদন্তে সাহায্য করা ও নিজের ভুল স্বীকার করে নেওয়ার জন্য দুই বছরের সাজা কমিয়ে এক বছর সকল ধরণের ক্রিকেট থেকে নির্বাসনে পাঠানো হয় তাকে। গত ২৯ অক্টোবর সেই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ করে মুক্ত হয়েছেন টাইগার অলরাউন্ডার। তবে দলের বাকিদের মতো করোনার কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা হয়নি তার।

এবার ফেরার উপলক্ষ পাচ্ছেন সাকিব। প্রত্যাবর্তনটা নিশ্চয়ই সুখকর করতে চাইবেন। তেমনটা হলে মাঠের লড়াইয়ে উইন্ডিজের সঙ্গে মুখোমুখি দেখার ফলাফলেও বেশ পরিবর্তন আসবে। ওয়ানডে ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত দুই দল মুখোমুখি হয়েছে ৩৮ বার।
যেখানে ১৫ জয়ের বিপরীতে ২১ হার টাইগারদের। ফলাফল হয়নি এমন ম্যাচের সংখ্যা ২টি। ঘরের মাঠেও পরিসংখ্যান কথা বলছে না বাংলাদেশের হয়ে। ১৭ ম্যাচ খেলে জয় যেখানে মোটে ৬টি, সেখানে ১০ বার পরাজয়ের স্বাদ পেতে হয়েছে। ফল হয়নি ১ ম্যাচে।

এই ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশ দলের ওয়ানডে ক্যাপ মাথায় তুলতে পারেন তরুণ পেসার হাসান মাহমুদ। সাকিবের ফেরার ম্যাচে বাড়তি স্পিনার হিসেবে তাইজুলের পরিবর্তে শেখ মেহেদী হাসানের পাল্লা ভারি। সেক্ষেত্রে তারও অভিষেক ঘটতে পারে। ইনজুরি কাটিয়ে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের ফেরা একপ্রকার নিশ্চিত। সাকিব চারে নেমে যাওয়ার তিন নম্বরে নাজমুল হোসেন শান্তকে খেলাতে চায় টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে সৌম্যর কাছে সাত নম্বরের জায়গা হারাতে পারেন আফিফ হোসেন ধ্রুব।

প্রথম ওয়ানডের জন্য বাংলাদেশ দলের সম্ভাব্য একাদশ-

তামিম ইকবাল (অধিনায়ক), লিটন কুমার দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সৌম্য সরকার, শেখ মেহেদী হাসান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মুস্তাফিজুর রহমান ও হাসান মাহমুদ।