দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে কী পেয়েছেন ধোনি?


প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর ২০২০ , ০২:৪৫ পিএম
দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে কী পেয়েছেন ধোনি?

২০০৮ সালে আইপিএলের প্রথম আসরে রানার্সআপ হয়েছিল চেন্নাই সুপার কিংস। সবমিলিয়ে ২০১৯ পর্যন্ত হওয়া আইপিএলের ১২টি আসরে দশবার অংশ নিয়েছে চেন্নাই। যেখানে ৮ বার ফাইনাল খেলেছে তারা, চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তিনবার। যে দুইবার ফাইনাল খেলতে পারেনি তারা, সে দুই আসরেও প্লে-অফ তথা সেরা চারে ঠিকই উঠেছিল মহেন্দ্র সিং ধোনি।

কিন্তু এবার হয়তো ভাঙতে যাচ্ছে সেই ধারা। আইপিএলের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গ্রুপপর্বেই বাদ পড়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে টুর্নামেন্টের ইতিহাসের অন্যতম সফল দলটি। আরব আমিরাতে চলমান আইপিএলের ১৩তম আসরে এখনও পর্যন্ত দশ ম্যাচ খেলে মাত্র ৩টি জিতেছে চেন্নাই। পয়েন্ট টেবিলে তাদের অবস্থান সবার নিচে।


স্বাভাবিকভাবেই এমন পারফরম্যান্সের পর চারদিক থেকে ধেয়ে আসছে সমালোচনার ঢেউ। যার সিংহভাগই সইতে হচ্ছে অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনিকে। বিশেষ করে ব্যাট হাতেও যাচ্ছেতাই পারফরম্যান্স হওয়ায় এবার ধোনির সমালোচনাটা হচ্ছে অনেক বেশি। দশ ম্যাচে মাত্র ১৬৪ রান করেছেন ধোনি।

শুধু ব্যাটিং নয়, তার অধিনায়কত্বকেও ধুয়ে দিয়েছেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক ও প্রধান নির্বাচক ক্রিস শ্রিকান্ত। একাদশ নির্বাচনে ধোনির একগুয়েমি ও তরুণ খেলোয়াড়দের যথাযথ সুযোগ না দেয়ার বিষয়টিকে চেন্নাইয়ের বাজে পারফরম্যান্সের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন শ্রিকান্ত।

সোমবার রাজস্থানের বিপক্ষে ৭ উইকেটে হারের পর ধোনি বলেছেন, তার দলের তরুণ খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রত্যাশিত দ্যুতিটা নেই, যা থাকলে তারা সিনিয়র খেলোয়াড়দের বেঞ্চে বসিয়ে নিয়মিত সুযোগ পেতো। এমন মন্তব্যে যেনো আরও বেশি ক্ষেপেছেন শ্রিকান্ত। দলে পিয়ুশ চাওলা ও কেদার যাদবকে কেন রাখা হয়েছে সে বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

স্টার স্পোর্টসের ক্রিকেট শো’তে শ্রিকান্ত বলেছেন, ‘ধোনি এবার তার প্রক্রিয়ার ব্যাপারে যা বলছে, তা আমি কখনওই মানতে পারব না। যে প্রক্রিয়ার কথা সে বারবার বলে এটা পুরোপুরি অর্থহীন। কেননা দল নির্বাচনের এ প্রক্রিয়া পুরোটাই ভুল। সবাইকে সঠিক সুযোগই দেয়া হচ্ছে না।’


এসময় উদাহরণ হিসেবে জাগদেসানের কথা তুলে ধরেন শ্রিকান্ত। যিনি রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর বিপক্ষে ম্যাচটি খেলে করেছেন ৩৩ রান। অন্যদিকে কেদার যাদব ৮ ম্যাচ খেলে করেছেন মাত্র ৬২ রান। যা কোনো ম্যাচেই দলের কোনো কাজে আসেনি। এছাড়া তার ফিটনেস নিয়েও রয়েছে বড় প্রশ্ন।

শ্রিকান্তের ভাষ্য, ‘ধোনির ভাবনাটা কী আসলে? সে বলছে জাগদেসানের মধ্যে দ্যুতি নেই। তাহলে কি স্কুটার যাদবের (কেদার যাদব) মধ্যে দ্যুতি আছে? এটা হাস্যকর ভাবনা। আমি অন্তত আজকে তার এই মন্তব্য মানতে পারছি না। এসব প্রক্রিয়ার কথা বলতে বলতে চেন্নাইয়ের টুর্নামেন্ট শেষ হয়ে যাচ্ছে।’

পিয়ুশ চাওলা ও কেদার যাদবের মধ্যে ধোনি কী পেয়েছেন তা জিজ্ঞেস করে শ্রিকান্ত আরও বলেন, ‘ধোনি এখন বলছে যে চাপ কমে গেলে সে তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ দেবে। আমি এই ফালতু প্রক্রিয়ার আগাগোড়া কিছুই বুঝতে পারছি না। সে জাগদেসানের মধ্যে কোন দ্যুতিটা দেখেনি? যাদব ও চাওলার মধ্যে সে কী দেখেছে?’

‘করন শর্মা অন্তত উইকেট নেয়। চাওলা শুধু এসে বোলিংই করে যায়। বিশেষ করে যখন ম্যাচের আর কিছুই বাকি নেই। ধোনি অবশ্যই বড় একটি নাম, একজন কিংবদন্তি- এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু আমি এ বিষয়ে অন্তত তাকে সমর্থন করতে পারছি না।’