বার্সায় এসেই মেসিকে কী বলেছিলেন, জানালেন কোমান


প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর ২০২০ , ০৯:৪৮ পিএম
বার্সায় এসেই মেসিকে কী বলেছিলেন, জানালেন কোমান

লিওনেল মেসি তখন খুব রেগে গিয়েছিলেন। কী নিয়ে সেটি অবশ্য পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

কখনো গুঞ্জন এসেছে, বার্সেলোনার নতুন কোচ রোনাল্ড কোমান এসেই তাঁকে বলেছেন, ‘দলে তুমি বাড়তি অধিকার পাবে না, অন্য যে কারও মতোই পরিশ্রম করতে হবে’; সেটি নিয়েই নাকি খেপেছেন মেসি। আবার পরে শোনা গেছে, কোমানের কোনো কথায় নয়, মেসি আসলে খেপেছেন তাঁর সঙ্গে কোমানের যে কথা হয়েছে সেসব সঙ্গে সঙ্গেই সংবাদমাধ্যমে এসে যাওয়ায়।

কিন্তু আসলে কী কথা হয়েছে তখন কোমানের সঙ্গে মেসির? দলে মেসির বাড়তি কী কী অধিকার আছে, সে অন্য প্রশ্ন। তবে কোমান কি আসলেই দলে মেসির ‘বাড়তি অধিকার’ কেড়ে নেওয়ার কথা বলেছিলেন? বার্সেলোনায় কোচ হয়ে আসার পর মেসির সঙ্গে তাঁর প্রথম সেই সাক্ষাতের বিস্তারিত এবার জানিয়েছেন কোমান নিজেই। ডাচ পত্রিকা আলখেমিন ডাখব্লাডের সঙ্গে আলাপে কোমান কথা বলেছেন লুইস সুয়ারেজের বার্সা ছাড়ার প্রসঙ্গ নিয়েও।

সুয়ারেজের বার্সা ছাড়া নিয়েও মেসি বেশ খেপেছিলেন। সুয়ারেজ তাঁর প্রিয় বন্ধু বলে যতটা, তার চেয়েও বেশি বার্সা যেভাবে সুয়ারেজকে ক্লাব থেকে বিদায় করে দিয়েছে, সেটি নিয়ে। কোমান সব সময়ই সরাসরি কথা বলতে পছন্দ করেন, বার্সায় এসেই সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন, সুয়ারেজ তাঁর পরিকল্পনায় নেই। কিন্তু উরুগুইয়ান স্ট্রাইকারকে সেটি জানানো হয় সংক্ষিপ্ত এক ফোন কলের মাধ্যমে। অথচ সুয়ারেজ বার্সার ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা!

এটা পরিষ্কার হয়ে গেছে যে খেলোয়াড়দের মধ্যে ক্লাবের প্রায় সবকিছু নিয়েই অনেক অসন্তুষ্টি আছে। সে কারণে আমার কাছে মনে হয়েছে, মেসির সঙ্গে সবার আগে কথা বলাটা জরুরি।
রোনাল্ড কোমান
শেষ পর্যন্ত লিগ প্রতিদ্বন্দ্বী আতলেতিকো মাদ্রিদে চলে গেছেন সুয়ারেজ। তাঁর বিদায়ের ধরনে বিরক্ত মেসি ইনস্টাগ্রামে সুয়ারেজকে বিদায়ী শুভেচ্ছা জানানো পোস্টে লিখেছিলেন, বার্সায় গত কিছুদিনে যা চলছে, তাতে এমন কিছু হয়তো অপ্রত্যাশিতও নয়। আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের ক্ষোভ অবশ্য কোমান নয়, বার্সার বোর্ড ও সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউর ওপর। কোমানও সুয়ারেজের এমন দলবদলে তাঁর কোনো দায় নেই জানিয়ে বললেন, ‘(সুয়ারেজের বিদায় নিয়ে মেসির) হতাশা আমি ভালোভাবেই বুঝেছি। কিন্তু যখন লুইস (সুয়ারেজ) ক্লাব ছেড়ে যায়, ও অনুশীলন মাঠে এসে ব্যক্তিগতভাবে কোচিং দলের সবার সঙ্গে দেখা করেছে। ও (সুয়ারেজ) যদি নিজের বিদায়ের জন্য আমাদের দোষারোপ করত, তাহলে এমন কিছু ও করত না। আমার মনে হয় এই ব্যাপারটা আমরা বেশ খোলাখুলি ও ন্যায্যভাবেই মিটমাট করেছি।’

সুয়ারেজ থেকে প্রসঙ্গ বদলে গেল মেসির দিকে। স্প্যানিশ দৈনিক মার্কা সাক্ষাৎকারটা যেভাবে ছেপেছে, তাতে দেখা যায় এর পরের সব প্রশ্নই আসলে মেসিকে নিয়ে। তা বার্সায় এসে কখন মেসির সঙ্গে কথা বলা জরুরি মনে হয়েছে কোমানের? ৫৭ বছর বয়সী ডাচ কোচের উত্তর, ‘(বার্সার কোচ হয়ে আসার পর) শুরু দিনগুলোতে ক্লাবের পরিস্থিতি নিয়ে অনেকের সঙ্গেই কথা বলেছি। তখন এটা পরিষ্কার হয়ে গেছে যে খেলোয়াড়দের মধ্যে ক্লাবের প্রায় সবকিছু নিয়েই অনেক অসন্তুষ্টি আছে। সে কারণে আমার কাছে মনে হয়েছে, মেসির সঙ্গে সবার আগে কথা বলাটা জরুরি। ও কীভাবে সবকিছু দেখছে, সেটা শোনা জরুরি।’

মেসি-কোমানের সেই বৈঠকটা হয়েছে মেসির ঘরে। কী কথা হয়েছে? মেসির ‘বাড়তি অধিকার’ খর্ব করা সংক্রান্ত কিছু অবশ্য পাওয়া গেল না সব সময়ে সোজাসুজি কথা বলা কোমানের উত্তরে, ‘ওর বাসায় সেই আলাপে ও সবই বলেছে আমাকে। মনোযোগ দিয়ে সব শুনেছি। তবে পাশাপাশি এ-ও বলেছি, ‘‘এর আগে যা ঘটেছে, সেগুলোতে আমি কোনোভাবেই জড়িয়ে ছিলাম না।’’ আমি শুধু আমি কীভাবে কাজ করতে চাই, কীভাবে ক্লাবে সবকিছু বদলাতে চাই সেসব নিয়ে কথা বলেছি। আলাপের শেষদিকে আমরা ম্যাচে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার সবচেয়ে ভালো কৌশল, ম্যাচ নিয়ে কথা বলেছি। মাঠের ফুটবল নিয়েই কথা হয়েছে। আমার খুব ভালো লেগেছে এটা দেখে যে, ও ফুটবলের ভক্ত, এখনো ফুটবলে কীভাবে কী হয় সেসব নিয়ে জানতে চায়।’

সেই বৈঠকের কদিন পরই অবশ্য বার্সেলোনাকে বুরোফ্যাক্স পাঠিয়ে মেসি জানিয়ে দেন, তিনি ক্লাব ছাড়তে চান। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমে অবশ্য তখন খবর আসে, কোমানের সঙ্গে বৈঠকেই মেসি তাঁর ক্লাব ছাড়ার ইচ্ছের কথা জানিয়ে রেখেছিলেন। দশ দিন ধরে অনেক হাঁচোড়পাঁচোড়ের পর অবশ্য বার্সা ছাড়তে পারেননি মেসি, চুক্তির জটিলতায় থেকে যেতে হয়েছে। দলের অধিনায়কের এই দলবদলের ইচ্ছা ও সেটির পরের কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে কোমানের অনুভূতি, ‘ও ছাড়তে চেয়েছে, কিন্তু ক্লাব এ ব্যাপারে পরিষ্কারভাবে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে দিয়েছে। ও যেতে পারেনি। (মেসির বাই আউট ক্লজের) অঙ্কটা এত বেশি ছিল যে এই মুহূর্তে কোনো ক্লাবের পক্ষেই সেটি দেওয়া সম্ভব নয়। তাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার ছিল কীভাবে মাঠে-মাঠের বাইরে ওকে ফেরাব। সেটি ফুটবলার হিসেবে যেমন, তেমনি মানুষ হিসেবেও।’

কিন্তু বার্সায় চুক্তির শেষ মৌসুমটা থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে মেসি অনুশীলনে ফেরার পর অবশ্য কোমানকে কোনো কিছু ভাবতে হয়নি, ‘ওই কর্মচঞ্চল সপ্তাহের পর ও আবার অনুশীলন শুরু করার পর আমি যা দেখেছি, সবই ভালো লেগেছে। ওর আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলার কিছু নেই। সবচেয়ে ভালো দিকটি হচ্ছে, বল পায়ে পেলেই মেসি খুশি।’

অনুশীলনে প্রতিদিনই তো মেসিকে দেখছেন। সময় ছাপিয়ে সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলারকে প্রতিদিন কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা কোমান জানালেন এভাবে, ‘ও যেভাবে ফুটবল খেলাটা দেখে, সেটা দারুণ। ফুটবলার হিসেবে ও কতটা স্মার্ট, টেকনিক্যালি সবকিছু কত নিখুঁতভাবে করতে পারে, সেটা দেখতে ভালো লাগে। বল পায়ে কী করবে সে সিদ্ধান্তটা (প্রতিপক্ষ ট্যাকল করার আগে) একেবারে শেষ মুহূর্তে সেকেন্ডের ভগ্নাংশের মধ্যে কাজে লাগায় ও। অনুশীলনে পাসিং ড্রিল করার সময় আলফ্রেড শ্রুডার (কোমানের সহকারী) কিছুটা স্প্যানিশে আর কিছুটা ইংরেজিতে নির্দেশনা দেয়। মাঝে মাঝে আমি স্প্যানিশে আরও কিছু দিক পরিষ্কারভাবে বোঝাই। কিন্তু মেসির ক্ষেত্রে সেটার দরকার পড়ে না, সঙ্গে সঙ্গেই অনুশীলন শুরু!’