ভেলপুরি নাকি খুবই অস্বাস্থ্যকর, কিন্তু কেন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারি ২০১৯ , ০৮:২৩ পিএম
ভেলপুরি নাকি খুবই অস্বাস্থ্যকর, কিন্তু কেন?

রাজধানীতে চলার পথে খাবারের দোকানের অভাব নেই। ঝালমুড়ি, চটপটি, ফুসকার ভিড়ে ভেলপুরি!

ভেলপুরি নাকি খুবই অস্বাস্থ্যকর! তারপরও নিয়ম করে অনেকে প্রতিদিনই ভেলপুরি খান। কিন্তু কেন?

অস্বাস্থ্যকর হলেও ভেলপুরির স্বাদের কাছে হার মানেন সবাই। কারণ ঝালের সঙ্গে মিস্টি টকের স্বাদে অনন্য ভেলপুরি। তবে একটু চেষ্টা করলেই কিন্তু মজাদার এই খাবারটি বাড়িতেই তৈরি করে ফেলতে পারবেন খুব সহজে।

আজ আমরা দেখে নেব `ভেলপুরি` তৈরির সহজ রেসিপি। এই খাবার তৈরির জন্য পাঁচটি পদ লাগবে। ঘুঘনি, পুরি, তেতুলপানি, সালাদ আর চাটমসলা।

চাটমসলা তৈরির পদ্ধতি

উপকরণ: ১০টি শুকনামরিচ। পাঁচফোড়ন আধা টেবিল-চামচ। জিরা ১ টেবিল-চামচ। মৌরি ১ চা-চামচ। গোলমরিচ ১ চা-চামচ। বিটলবণ ১ চা-চামচ। ম্যাঙ্গপাউডার বা আমচুড় ২ চা-চামচ। আদাগুঁড়া ১ চা-চামচ। লবণ ১ চা-চামচ।

পদ্ধতি: আমচুর, বিটলবণ, আদাগুঁড়া, লবণ বাদে বাকি সব মসলা হালকা টেলে নিতে হবে৷ মসলা যদি বেশি টালা হয় তাহলে কালো হয়ে যাবে আর তিতা লাগবে। আবার কম টালা হলে মসলার আসল স্বাদ পাওয়া যাবে না৷ তাই সেভাবে টেলে নিতে হবে, বেশি ভাজাও হবে না আবার কমও না৷ টালা শেষ হলে ঠাণ্ডা করে গুঁড়া বানিয়ে বিটলবণ, আমচুর, লবণ, আদাগুঁড়া মিশিয়ে নিন। তৈরি করা চাটমসলা ‘এয়ার টাইট’ বোতলে ভরে অনেক দিন সংরক্ষণ করা যায়৷

আলুচাট, ভেলপুরি, চটপটি, ফ্রুটচাট, ঝালমুড়িতে ব্যবহার করা যাবে৷ তৈরি করা মসলা ফ্রিজারে রাখলে বেশি ভালো থাকে।

ঘুঘনি

উপকরণ: মটরডাল ২৫০ গ্রাম (তিন থেকে চার ঘণ্টা পানিতে ভেজানো)। হলুদ ১ চা-চামচ। চাটমসলা ৩ টেবিল-চামচ অথবা স্বাদমতো। পুদিনা ও ধনেপাতার কুচি পরিমাণমতো। লেবুর রস স্বাদমতো। কাঁচামরিচের কুচি স্বাদমতো। লবণ খুব অল্প (চাটমসলার সঙ্গে লবণ দেওয়া আছে তাই)৷

পদ্ধতি: ভেজানো মটরডালের সঙ্গে হলুদগুঁড়া এবং সামান্য লবণ দিয়ে সিদ্ধ করে নিভু নিভু চুলার আঁচে ১০ থেকে ২০ মিনিট বসিয়ে

রেখে সিদ্ধ করতে দিন। মটরডালের পানি শুকিয়ে ভর্তার মতো নরম হলে নামিয়ে নিতে হবে৷

ডালের মধ্য একটুও পানি থাকবে না৷ এখন চুলা থেকে নামিয়ে সিদ্ধ ডালের সঙ্গে চাটমসলা, পুদিনা ও ধনেপাতার কুচি, লেবুর রস, কাঁচামরিচ মিশিয়ে ঘুঘনি তৈরি করে রাখতে হবে৷

পুরি

উপকরণ: ময়দা ২ কাপ। সুজি ২ টেবিল-চামচ। তেল ৬ টেবিল-চামচ (গরম তেল)। পানি ১১ থেকে ১২ টেবিল-চামচ অথবা আন্দাজমতো। বেকিং পাউডার ১/৪ চা-চামচ। তেল- ডুবো তেলে ভাজার জন্য যতটুকু দরকার।

পদ্ধতি: ময়দা, সুজি ও লবণ একসঙ্গে বাটিতে নিয়ে এর মাঝে গরম তেল (তেল হালকা গরম থাকবে) দিয়ে ভালোমতো মেশাতে হবে। এবার একটু একটু করে পানি দিয়ে খামির তৈরি করুন। খামিরটা মোটামুটি শক্ত হবে। এখন খামির ভেজা কাপড় দিয়ে ২০ মিনিট ঢেকে রাখতে হবে৷

তারপর খামির মথে মাঝারি আকারের গোল গোল বলের মতো করে বানিয়ে আবার ভেজা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখুন।

তারপর একটা একটা করে ছোট রুটিরমতো করে গোল পুরি বানিয়ে গরম তেল দিয়ে হালকা বাদামি রং করে ভেজে নিন৷ তেল ভালোমতো গরম হলে পুরি দিতে হবে৷ পুরি বেলার সময় বেশি পাতলা হবে না আবার বেশি ভারি হবে না। এইভাবে পুরির রুটিগুলো বানাতে হবে তাহলে পুরি ফুলবে সুন্দর।

তেঁতুল পানি

তেঁতুলে ক্বাথ ১ কাপ (পাতলা হবে বেশি ঘন হবে না)। চিনি ২ চা-চামচ। লবণ ১ চা-চামচ। শুকনামরিচের গুঁড়া স্বাদমতো।

সব উপকরণ একসঙ্গে হাঁড়িতে নিয়ে, চুলায় ৫-৬ মিনিট নেড়ে জ্বাল দিয়ে তেঁতুলটক তৈরি করে রাখতে হবে৷

সালাদের জন্য

শসাকুচি, কাঁচামরিচের কুচি, পেঁয়াজকুচি ও ধনেপাতার কুচি৷

ভেলপুরি তৈরি

এখন বানানো পুরির একপাশ কেটে, বানানো ঘুঘনি ভেতরে ভরে এর উপরে সালাদ দিন। সবশেষে আবার একটু চাটমসলা ছিটিয়ে তেঁতুলপানি দিয়ে দিন। হয়ে গেল ভেলপুরি।

দেখে নিতে পারেন ‘ঢাকাই ভেলপুরি’র এই ভিডিও –https://www.youtube.com/watch?v=FleXAACpVxw