ইউটিউব নিয়ে শিশুদের জন্য সুখবর

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩০ মার্চ ২০১৯ , ০৭:১৬ পিএম
ইউটিউব নিয়ে শিশুদের জন্য সুখবর

স্মার্টফোন ব্যবহার আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে। প্রায় প্রত্যেকটি পরিবারে অন্তত একটি স্মার্টফোন তো আছেই। শিশুদের কাছে দারুণ কৌতূহলের জিনিস এই স্মার্টফোন।

ইউনিসেফ বলছে, বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন এক লাখ ৭৫ হাজার শিশু নতুন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। এর অর্থ হচ্ছে, প্রতি ৩০ সেকেন্ডে একজন শিশু প্রথমবারের মতো ইন্টারনেট-জগতে প্রবেশ করছে। দেখা গেছে, আজকাল শিশুরা ভালো করে কথা বলতে পারার আগেই স্মার্টফোন ব্যবহারে পারদর্শী হয়ে উঠছে। আধুনিক সময়ে এর কাছ থেকে শিশুদের দূরে রাখাও সহজ ব্যাপার নয়। তাই অভিভাবকদের উচিত শিশুদের স্মার্টফোনের নিরাপদ ব্যবহারে অভ্যস্ত করা। এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হলো ইউটিউব। অনেক শিশুই স্মার্টফোন হাতে নিয়ে সরাসরি ক্লিক করে ইউটিউবে। নানা রকম ভিডিও আছে এই মাধ্যমটিতে। তাই বাবা-মা কিংবা অভিভাবকরা অসচেতন হলে এমন অনেক ভিডিও শিশুরা দেখে ফেলতে পারে, যেগুলো ওই বয়সের জন্য মোটেও প্রযোজ্য নয়। কারণ ইউটিউবের বেশির ভাগ কনটেন্টই বড়দের বা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য। এসব দেখা থেকে শিশুদের মুক্ত রাখতে হলে কিছু ব্যাপারে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।

ইউটিউব কিডসে থাকুন

ইউটিউব কিডস ইউটিউবের একটি ফ্যামিলি ফ্রেন্ডলি অ্যাপ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ ইউটিউব আসলে ১৩ বছরের নিচে যাদের বয়স তাদের নাগালের বাইরে রাখা উচিত। এ ক্ষেত্রে ইউটিউব কিডস একটি নিরাপদ সমাধান হতে পারে। কিন্তু ওই অ্যাপে শিশুদের উপযোগী আধেয় ছাড়াও ভুলবশত প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য উপযোগী কিছু ভিডিও প্লে লিস্টে চলে আসে, যা শিশুদের মেধা বিকাশের জন্য একদম উপযোগী নয়। তাই ইউটিউব কর্তৃপক্ষ ‘ইউটিউব কিডস’ অ্যাপটির সঙ্গেই একটা ‘ট্রাস্টেড কালেকশন’ নামে নতুন একটি অপশন চালু করেছেন। যাতে কোনো শিশু ইউটিউবে কার্টুন, ছড়া, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা এবং খেলনার ভিডিও দেখার আগে অপশনটি চালু করলে অনুপযোগী কোনো ভিডিও প্লে লিস্টে না আসে।

শিশুদের জন্য নিজস্ব অ্যাকাউন্ট

বাসায় স্মার্টফোন কিংবা ইন্টারনেট আসক্ত কোনো শিশু থাকলে তার নামেই একটি জিমেইল অ্যাকাউন্ট করে ফেলা যায়। ওই অ্যাকাউন্ট থেকে ইউটিউবের হোম পেইজের বাম পাশে থাকা সাইডবারের নিচে settings’ অপশনে ক্লিক করুন। সেটিংস পেইজে নিচের দিকে ‘খধহমঁধমব’, ‘Language, Country, Restricted Mode’, ‘Help’ লেখা চারটি অপশন দেখা যাবে। এ ক্ষেত্রে Restricted Mode অপশনে ক্লিক করুন। এরপর ‘on’ অপশন সিলেক্ট করে save’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। এতে করে আর ছোটদের অনুপযোগী ভিডিও সার্চ লিংক এসে হাজির হবে না।

প্লে লিস্ট তৈরি

শিশুদের জি-মেইল অ্যাকাউন্টের ইউটিউব চ্যানেল থেকে নিরাপদ কিছু শিশু উপযোগী চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করে রাখুন। তৈরি করুন একটি নিরাপদ প্লে লিস্ট। এ ছাড়া আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে ইউটিউবের অটো প্লে অপশনটি অফ করে রাখুন, যেন নির্দেশিত পরের ভিডিওটি আপনাআপনি চালু না হয়ে যায়।

নজরদারি

সব ব্যবস্থা নেওয়ার পরও শিশুরা কী দেখছে তার ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখুন। তারা যেসব ভিডিও দেখছে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করুন। ভালো এবং শিক্ষামূলক ভিডিওগুলো সম্পর্কে উৎসাহিত করুন। এ ছাড়া যদি তারা কোনো অবাঞ্ছিত ভিডিও দেখে ফেলে, তবে তা যেন বাবা-মাকে জানায় তার পরামর্শ দিন। শিশু আগ্রহ দেখে তার জন্য উপযুক্ত ভিডিওগুলো সম্পর্কেও আলোচনা করুন। এছাড়া আপনার পরিবারের শিশু সদস্যটিকে কোন কোন ভিডিও দেখবে তার একটি গাইডলাইন তৈরি করে দেন। পরিবারের অন্যান্য সদস্য এবং কোনো আত্মীয়স্বজনের ফোন শিশুরা হাতে নিলে সতর্ক দৃষ্টি রাখুন এবং মোবাইলের মালিককেও সতর্ক করুন।

শিশুদের জন্য নিরাপদ কিছু চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করে রাখা যায়। শিশুদের জন্য ইউটিউবে এমন কয়েকটি ভিডিও চ্যানেল রয়েছে, যেগুলো ইতিহাস রচনা করেছে

লিটল বেবি বাম : একেবারে শিশুদের জন্য এই চ্যানেলটি। নার্সারি রাইম নিয়ে শিক্ষণীয় ও মজার সব ভিডিও এরই মধ্যে খুব জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এর ভিডিওগুলো এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫০০ কোটির অধিক বার দেখা হয়েছে।

বেবি জয় জয় : এই চ্যানেলটিও খুব ছোট শিশুদের জন্য। হুড তোলা একটি জাম্পস্যুট পরা এক শিশু নানা মিউজিক্যাল অ্যাডভেঞ্চারে যায়। এবিসিডি নিয়েও ভিডিও আছে চ্যানেলটিতে।

বেবি আইনস্টাইন : কার্টুন, পাপেট ও বাস্তব শিশুদের নিয়ে একটি ব্যান্ডের ভিডিও চ্যানেল এটি। এখানে শিশুদের মিউজিক ও নানা পণ্য নিয়েও ভিডিও আছে।

রায়ান টয়েস রিভিউ : এই চ্যানেলটি একটু বড় শিশুদের জন্য। রায়ান নামে এক ছোট্ট বালক, তার পরিবার ও অসংখ্য খেলনার চ্যানেল এটি। রায়ান নিত্যনতুন খেলনা নিয়ে ভিডিও তৈরি করে এই চ্যানেলে আপলোড করে। এছাড়া বিভিন্ন সায়েন্স প্রজেক্ট, প্র্যাংকসহ নানা মজার ভিডিও থাকে। এই চ্যানেলটি ইউটিউবের সবচেয়ে বেশি আয় করা চ্যানেলগুলোর একটি।

ইভানটিউব এইচডি : এটিও নতুন নতুন খেলনা নিয়ে চ্যানেল। এসব খেলনা কীভাবে খুলতে হবে, খেলতে হবে তা নিয়েই এই চ্যানেল। এটিও ভীষণ জনপ্রিয় একটি চ্যানেল।

চার্লিস ক্রাফটি কিচেন : এই চ্যানেলটি দেখলে বাচ্চারা রান্নাঘরে নানা মিষ্টি খাবার তৈরি করতে উৎসাহী হবে। এছাড়াও এখানে চ্যালেঞ্জ ভিডিওসহ নানা রকমের কনটেন্ট আছে।

ক্রাশ কোর্স কিডস : শিক্ষাবিষয়ক নানা ইউটিউব চ্যানেলও খুব জনপ্রিয়। যেমন ক্রাশ কোর্স কিডস। গ্রেড স্কুলের বিজ্ঞানবিষয়ক শিক্ষা দেয় এই চ্যানেলটি। প্রকৌশল, ফিজিক্স, লাইফ সায়েন্সসহ নানান বিষয় খুব চমৎকারভাবে উপস্থাপন করা হয় এই চ্যানেলে।

কুল স্কুল : কুল স্কুলে বই পড়া, ভাষা শিক্ষা, আর্ট ক্লাস ছাড়াও নানা মজার বিষয় শেখানো হয়। মজার মজার চরিত্র এখানে শিশুদের পড়ায়।

এছাড়া সাই-শো কিডস, ফ্রি স্কুলসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাবিষয়ক চ্যানেল খুব জনপ্রিয়।

টিভির ইউটিউব চ্যানেল : ডিজনি চ্যানেল, কার্টুন নেটওয়ার্ক, নিকেলোডেনসহ জনপ্রিয় টিভি চ্যানেলগুলোর ইউটিউব ভার্সনগুলোও খুব জনপ্রিয়।

মিউজিক চ্যানেল : কিডজ বপ, দ্য কিবুমার্স, ডিজনি মিউজিক ভেভো চ্যানেলগুলো শিশুদের কাছে খুবই জনপ্রিয়।

ঘুম পাড়ানির গান : শিশু ঘুমাচ্ছে না? চালিয়ে দিন বেস্ট বেবি লালাবাইজ চ্যানেলটি। এর চমৎকার সংগীত শিশুকে ঘুম পাড়াতে বাধ্য করে।