ইংরেজি নববর্ষের অজানা কিছু তথ্য


প্রকাশিত: ০১ জানুয়ারি ২০১৯ , ০৫:২৪ পিএম
ইংরেজি নববর্ষের অজানা কিছু তথ্য

* যুক্তরাজ্য : নতুন বছরে মধ্যরাতের পর যে পুরুষ প্রথম বাড়িতে পা দেন, বলা হয় তিনি বাড়িতে সৌভাগ্য নিয়ে আসেন। পুরুষরা বাড়িতে টাকা, রুটি, কয়লাসহ অন্যান্য সামগ্রী উপহার হিসেবে নিয়ে আসেন, যেন সারা বছর এসব জিনিসের অভাব না হয়। লন্ডনে নববর্ষের আগ মুহূর্তে ট্রাফালগার স্কোয়ার এবং পিকাডেলি সার্কাসে প্রচুর মানুষ সমবেত হন। মধ্যরাতে বিখ্যাত ঘড়ি বিগ বেনে রাত ১২টার সংকেত দিলেই টেমস নদীর আকাশ ছেয়ে যায় আতশবাজির ঝলকে।

* বাংলাদেশ : পশ্চিমাদেশগুলোর মতো আমাদের দেশেও বর্তমানে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ইংরেজি নববর্ষকে স্বাগত জানানো হয়। ৩১ ডিসেম্বর ও বছরের শুরুর দিন আয়োজন করা হয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কনসার্ট, পার্টি।

* যুক্তরাষ্ট্র : যুক্তরাষ্ট্রে নববর্ষ উদযাপনের কেন্দ্রবিন্দু টাইমস স্কোয়ার। নতুন বছর শুরু হওয়ার ১০ সেকেন্ড আগে এক বিশালাকার ক্রিস্টাল বল নেমে নতুন বর্ষের আগমনের কাউন্টডাউন শুরু করে। এটিই বিশ্বের সবচেয়ে বড় নিউ ইয়ার পার্টি। এতে প্রায় ৩০ লাখ লোক অংশগ্রহণ করে।
* ফ্রান্স : ফ্রান্সে বছরের শেষ দিনে ঘরে থাকা সব মদ শেষ করতেই হবে। নতুন বছরে ঘরে পুরনো মদ পড়ে থাকা অশুভ। সৌভাগ্য ঘরে আসবে না। তবে ঘরে থাকা মদ ফেলে দিলে চলবে না। খেয়েই শেষ করতে হবে। মদে মশগুল রাত, নতুন ভোর।

* জার্মানি : নববর্ষের আগে খাওয়া খাবারের কিছু অংশ মধ্যরাতের জন্য রেখে দেয়া হয়, যাতে নতুন বছর ঘরে পর্যাপ্ত খাবার থাকে।

* জাপান : জাপানে নববর্ষের সময় সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। খারাপ আত্মাকে দূরে রাখার জন্য এ সময় বাড়ির বাইরে দড়ি দিয়ে খড়ের টুকরো ঝুলিয়ে দেয়া হয়। এটাকে তারা সুখ এবং সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে দেখে।

* প্যারাগুয়ে : বছরের শেষ পাঁচদিন ঘরে কোনো আগুন জ্বলে না। হয় না কোনো রান্না। ওই পাঁচদিন তারা পালন করে ‘ঠাণ্ডা খাবার খাওয়ার দিন’ হিসেবে। ৩১ ডিসেম্বর রাত ১২টার পর নতুন বছরের ঘণ্টা বাজলে চুলোয় আগুন জ্বেলে নতুন নতুন পদ রান্না করা হয়। তারপর একসঙ্গে খেয়ে নতুন বছরে পা দেন তারা।

* পোল্যান্ড : এখানকার তরুণীরা বর্ষবরণের রাতে খরগোশের মতো পোশাক পরে লাফিয়ে লাফিয়ে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি জোগাড় করে। তারপর ওই শাকসবজির যতটা সম্ভব চিবিয়ে খায়। শাকসবজি খেলে নাকি নতুন বছরের দিন সুন্দর হয়।

* বুলগেরিয়া : বুলগেরিয়ায় বর্ষবরণের দিন হাঁচি দেয়া বেশ মঙ্গলের। বর্ষবরণের দিন তাদের বাড়িতে আসা কোনো অতিথি যদি হাঁচি দেন, তাহলে বাড়ির কর্তা তাকে নিজের খামারে নিয়ে যান। তারপর ওই ব্যক্তির প্রথম নজর যে পশুর ওপর পড়বে, সেই পশুটি ওই ব্যক্তিকে উপহার দেয়া হয়।

* হাঙ্গেরি : বছরের শেষ দিন হাঙ্গেরিবাসী হাঁস, মুরগি বা কোনো ধরনের পাখির মাংস খান না। তাদের বিশ্বাস- উড়তে পারে এমন পাখির মাংস খেলে নতুন বছরে জীবন থেকে সৌভাগ্য উড়ে যাবে।

* অস্ট্রেলিয়া : সিডনিতে নববর্ষ উপলক্ষে প্রায় ৮০ হাজার আতশবাজি ফোটানো হয় যা ১৫ লাখ লোক উপভোগ করেন।

* আর্জেন্টিনা : আর্জেন্টিনায় নববর্ষের আগের দিন রাতে পরিবারের সবাই একত্রে খাবার টেবিলে বসে আহার করে। ভোর পর্যন্ত চলে নানা অনুষ্ঠান। নববর্ষের প্রথম দিন নদী বা পুকুরে সাঁতার কেটে তারা নববর্ষ উদযাপন করে।

* রাশিয়া : গ্রান্ডাফাডার ফ্রস্ট, যিনি সান্টাক্লসের লালের পরিবর্তে নীল সুট পরে এ দিন শিশুদের মধ্যে খেলনা বিতরণ করেন।

* ব্রাজিল : ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো সমুদ্রসৈকতে নববর্ষের সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান হয়। এর অন্যতম আকর্ষণ চোখধাঁধানো আতশবাজির প্রদর্শনী। সমুদ্রে সাতটি ডুব দিলে এবং সাতটি ফুল ছুড়ে দিয়ে তারা মনে করেন বছরটি খুব ভালো কাটবে।

* স্কটল্যান্ড : এডিনবরায় যে নববর্ষ উৎসব হয় তা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় উৎসবগুলোর মধ্যে একটি। চার দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে বিশ্বের সব প্রান্ত থেকে মানুষ আসে।