অবাক করা বিশ্ব রেকর্ড করেছেন ১০২ বছরের বৃদ্ধা

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৪ ডিসেম্বর ২০১৮ , ০৮:০৩ পিএম
অবাক করা বিশ্ব রেকর্ড করেছেন ১০২ বছরের বৃদ্ধা

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার শতোর্ধ্ব বয়সী এক বৃদ্ধা উঁচু আকাশ থেকে লাফিয়ে পড়ে বিশ্ব রেকর্ড করেছেন।

বিষয়টি অবাক করার মতোই। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার এসএ স্কাই ড্রাইভ আয়োজিত দীর্ঘ উঁচুতে অবস্থিত বিমান থেকে লাফিয়ে পড়ে ভূমিতে নেমে পরিবার ও বন্ধুমহলকে অবাক করে দিয়েছেন তিনি।

১০২ বছরের এ বৃদ্ধার নাম আইরিন ও’শিয়া। থাকেন দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার অ্যাথেলস্টোনে।

কিছুদিন আগে তার জন্মদিন পালিত হয়। জন্মদিন পালনের দিন বিমানে চড়ে আকাশের সুউচ্চে ওঠেন। ১৪ হাজার ফুট ওপরের আকাশ থেকে উড়ন্ত পাখির মতো উড়াল দিয়ে শূন্যে ভাসতে থাকেন এবং তার প্রশিক্ষকের সঙ্গে নিচে নেমে আসেন এই সাহসী মহিলা।

বর্তমানে তিনিই পৃথিবীর সবচেয়ে বয়স্ক নারী যিনি ১৪ হাজার ফুট ওপর থেকে লাফিয়ে পড়ে নিচে এসেছেন।

দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার একটি মানবিক সেবামূলক সংঘ মোটর নিউরন নামের অদ্ভুত রোগের গবেষণা, মানুষকে সচেতনতা ও আর্থিক সাহায্যের জোগান দেয়ার জন্য বিভিন্ন কাজ করে।

এবার এই প্রফুল্লমনা বৃদ্ধা তার দুঃসাহসিকতার পরিচয় দেন। ১৪ হাজার ফুট উঁচু আকাশ থেকে পড়ে যে অর্থ উপার্জন করেন তার পুরোটাই ওই মানবিক সেবামূলক সংঘকে দিয়ে দেন। তার এ কাজের পেছনে মূল ঘটনা হল তিনি তার মেয়েকে মোটর নিউরন রোগে হারান।

এটি একটি স্নায়ুরোগ যা মস্তিষ্কের ওপর অস্বাভাবিক প্রভাব পড়ে। ধীরে ধীরে দুর্বল হতে হতে একসময় মানুষের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কর্মক্ষমতা হারিয়ে যায়।

আইরিন ও’শিয়া দশ বছর আগে তার মেয়েকে চোখের সামনে হারিয়ে যেতে দেখেন। তিনি পলে পলে তার মেয়ের মৃত্যুর করুণ দৃশ্য অবলোকন করতে থাকেন।

কোনো সাহায্য বা চিকিৎসা করতে না পেরে অবশেষে মেয়েকে হারান। এই করুণ বেদনার কথা ভুলতে না পেরে মানুষের সাহায্যের জন্য এমন কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে অংশগ্রহণ করেছেন। তাকে এ কাজে যিনি সাহায্য করেছেন তার নাম জেড স্মিথ।

স্মিথের ১০ বছরের অভিজ্ঞতায় ৩ হাজার ৭০০ বারের বেশি স্কাইড্রাইভ করেছেন। তার এ অভিজ্ঞতার সঙ্গে বিশেষ সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে আইরিনকে নিয়ে আনন্দে লাফিয়ে নিচে পড়েন।

তাদের সঙ্গে আরও দুজন এই বিশ্ব রেকর্ড ভিডিও করার জন্য বিমান থেকে লাফিয়ে পড়েন। হাসি আর উচ্ছ্বাসের মধ্যে তারা সবাই সুন্দরভাবে নিচের বেলাভূমিতে অবতরণ করেন।

আইরিন এর আগেও আরও দুবার স্কাইড্রাইভ করেছেন। তবে এবার আগের রেকর্ড ভেঙে সারা দুনিয়ায় নিজের নাম লিখিয়েছেন সবার ওপরে।

আকাশ থেকে নিচে নেমে গুটি গুটি পায়ে হাঁটার সময় বেশ আনন্দের সঙ্গে সবাইকে জানান, তিনি আর সবার মতো স্বাভাবিক এবং নিজেকে বেশ সুস্থও মনে করেন। আরও উল্লেখ করেন, তিনি স্বেচ্ছায় এই কাজে অংশগ্রহণ করেছেন।

সত্যি, তার সাহসিকতা বয়সকে হার মানিয়ে দেয়।