সাগরের গভীরে এক অজানা জগত!

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯ নভেম্বর ২০১৮ , ০৭:৩৩ পিএম
সাগরের গভীরে এক অজানা জগত!

গবেষকরা সমুদ্রের তলদেশে প্রায় এক অজানা জগতের সন্ধান পেয়েছেন। সেই প্রাচীর প্রায় ১০০ মিটার উঁচু ও ৪০০ কিলোমিটার বিস্তৃত।

শীতল পানির প্রবাল দিয়ে সেটি তৈরি। এই প্রবাল হাজার হাজার মিটার গভীরে কোনো আলো ছাড়াই বেঁচে থাকে। গবেষক দলের সদস্য ড. ক্লাউডিয়া ভিনব্যার্গ জানান, সমুদ্রের গভীরে নিশ্ছিদ্র অন্ধকারে এরা থাকে। স্রোতের মাধ্যমে ক্ষুদ্র খাদ্যকণা আগমনের ওপর নির্ভর করে। সেগুলো খেয়েই বাঁচে।

তুষারকণার মতো ভেসে আসা প্ল্যাংকটন খেয়ে প্রবাল বেঁচে থাকে। কিন্তু সমুদ্রের গভীরে প্ল্যাংকটনের পরিমাণ কম হওয়ায় প্রবালের বংশবৃদ্ধির হারও কম। এক হাজার বছরে বড় জোর ১৫ মিটার বৃদ্ধি ঘটে। তা সত্ত্বেও গবেষকরা গত কয়েক বছরে তাদের অভিযানে আবার অসাধারণ আকারের প্রবাল আবিষ্কার করেছেন।

বিশেষ করে আটলান্টিক মহাসাগরে তারা অনেক প্রবাল প্রাচীর খুঁজে পেয়েছেন। এদের উচ্চতা ৩০০ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। আইফেল টাওয়ার বা বার্লিনের টেলিভিশন টাওয়ারের মতো উঁচু। এমন উচ্চতা পাওয়া যাবে সেখানে। তবে আশঙ্কার কথা, এ বৃহৎ প্রবাল প্রাচীর বর্ণ হারাচ্ছে।

মৌরিতানিয়া উপকূলের কাছে কিভাবে এই প্রাচীর সৃষ্টি হল তা জানতে ক্লাউডিয়া ভিনব্যার্গ ও তার সহকর্মীরা বিভিন্ন স্তরে পাথরের মতো জমে থাকা প্রবাল সংগ্রহ করেছেন। জানা গেছে, সেই প্রাচীর প্রায় ১০ লাখ বছর ধরে বেড়ে চলেছে। আজ তার অবস্থা কী? ড. ক্লাউডিয়া ভিনব্যার্গ সে বিষয়ে বলেন, উষ্ণ যুগের সূচনা, অর্থাৎ প্রায় ১০ হাজার বছর আগে থেকে এই এলাকায় আর কোনো প্রবাল নেই।

অক্সিজেনের ঘনত্ব অত্যন্ত কম হওয়ায় কোরাল আর বাঁচতে পারে না বলে তাদের ধারণা। তবে ভিডিও ক্যামেরায় পর্যবেক্ষণ করে তারা জানতে পেরেছেন, সম্প্রতি আবার সেখানে প্রবালের সমাগম ঘটেছে। কিন্তু আগের মতোই সেখানকার পরিবেশ অত্যন্ত খারাপ হওয়ায় কোরালের পক্ষে প্রাচীর তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না।

প্রবাল প্রাচীর সৃষ্টির ক্ষেত্রে লোফেলিয়া প্যারটুসা নামের এক শীতল পানির প্রবাল প্রজাতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। পাথুরে এই কোরাল শাখা-প্রশাখা বিস্তার করে বিশাল কলোনি গড়ে তোলে। সেই কলোনিতে তারামাছ, সি আর্চিন, মাছসহ নানা প্রাণী বাসা বাঁধে। সে বিষয়ে বিজ্ঞানীদের জ্ঞান এখনও সীমিত।

ড. ভিনব্যার্গ জানিয়েছেন, শীতল পানির কোরালকে গভীর সমুদ্রের বায়ো-ইঞ্জিনিয়ার বলা হয়ে থাকে। বাণিজ্যিক স্বার্থে এমন কিছু প্রজাতির মাছ ধরা হয়, যারা প্রবাল প্রাচীরে ডিম পাড়ে, খাদ্য সংগ্রহ করে অথবা কোণঠাসা হলে সেখানে আশ্রয় নেয়। অর্থাৎ গভীর সমুদ্রের ইকোসিস্টেম গঠনের ক্ষেত্রে এদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে।

এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৬ শ’য়েরও বেশি প্রজাতি আবিষ্কৃত হয়েছে, যারা শীতল পানির কোরালে থাকে। প্রত্যেকটি অভিযানে সেই সংখ্যা বেড়ে যায়। তবে শীতল পানির প্রবালের বংশবৃদ্ধি সম্পর্কে এখনও বেশি কিছু জানা যায়নি।

সমুদ্রের তলদেশে জাদুময় ও রহস্যময় এক জগৎ সৃষ্টি হয়েছে। সে বিষয়ে বোঝার আগেই আমরা সেই সম্পদ হারালে তা হবে অত্যন্ত দুঃখের কারণ।