সিক্রেট সুপারস্টার তাসনিম

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ মে ২০১৯ , ০৯:৫৯ এএম
সিক্রেট সুপারস্টার তাসনিম

সামাজিক গণমাধ্যমে এক সিক্রেট সুপারস্টার লিউনা তাসনিম সাম্য। নয় বছর বয়সী সাম্যের কণ্ঠে নজরুলগীতি ছাড়াও লোকগীতি, লালনগীতি, দেশাত্মবোধক ও আধুনিক গান শ্রোতাদের করেছে বিমোহিত। এরই মধ্যে ভারতের স্টার জলসা থেকে গানের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছে সে।

ভারতের টিভি চ্যানেল স্টার জলসার একটি গানের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছে সিক্রেট সুপারস্টার লিউনা তাসনিম সাম্য। ভিসা পেলেই সে যাবে কলকাতায়। জানিয়েছেন মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামিম আল ইয়ামীন।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল ৯ বছর বয়সী জাদুকরী কণ্ঠের এ মেয়েটি। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া এ মেয়ে এখন সবার কাছে বেশ পরিচিত। তার কণ্ঠের মুগ্ধতায় বুঁদ হয়ে আছে পুরো বাংলাদেশ। তার কণ্ঠে বেশকিছু লালনগীতি, লোকগীতি, নজরুলগীতি কাভার শুনে সবাই একবাক্যে বলছেন, সে এই সময়ের ‘সিক্রেট সুপারস্টার’! এই সুপারস্টারের বাবা আজমত আলী জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় সমাজসেবা অধিদফতরের অফিস সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটর এবং মা আরজুমান্দ মুশতারী।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, এত কম বয়সেই সে প্রায় ৭০টি গান মুখস্থ করে ফেলেছে। উত্তর মেলান্দহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাম্য পড়াশোনায় বেশ ভালো। আর গানের পাশাপাশি নৃত্যেও বেশ পটু। অন্যদিকে সে ভালো ছবি আঁকতে পারে, আবৃত্তি করে কবিতাও। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় জাতীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জনের পুরস্কারও আছে তার। তার বড় গুণ হলো বাদ্যযন্ত্রের সাহায্য ছাড়াই খালি গলায় যে কোনো শিল্পীর গান হুবহু অনুকরণ করতে পারে। বিভিন্ন ওস্তাদের কাছে গান শিখেছে সে। গানের প্রতি মেয়ের উৎসাহ দেখে বাবা স্থানীয় সংগীত শিক্ষকের কাছে মেয়েকে গানের তালিম নিতে দেন। তবে তার গানের হাতেখড়ি হয়েছে ওস্তাদ মোহাম্মদ রফিকের কাছে।

এ ছাড়া শিল্পকলা একাডেমি, উত্তরণ সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিক্ষকসহ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে গান শিখেছে সে। যদিও এলাকায় সে নৃত্যশিল্পী হিসেবেই পরিচিত। ছোট থেকেই মঞ্চে নাচত সে; নাচও শেখে। তবে হঠাৎই সে নাচের চেয়ে গানের দিকে বেশি ঝুঁকে যায়। সাম্যের মা-বাবাও গান গাইতে পারেন, গান শুনতে পছন্দ করেন। তাদের একমাত্র ছেলে তানজীন মাহমুদও গান গায়। সাম্যের এই পরিচিতি বা গানের প্রতি উৎসাহের পেছনে পুরো অবদান ইউএনও তামিম ও তার স্ত্রীর। সরকারি কোয়ার্টারে থাকার সুবাদে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামিম আল ইয়ামীনের দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে লহরী লিলিথের সঙ্গে খেলে ও একসঙ্গে গান শেখে সাম্য।

বাসায় যে শিক্ষকের কাছে সাম্য গান শেখে, সেই শিক্ষকের বেতনও এই দম্পত্তি দিয়ে থাকে। তার গান শুনে মুগ্ধ হয়ে সম্প্রতি সেই গান ভিডিও করে ফেসবুকে আপলোড করেন ইউএনও তামিম আল ইয়ামীন। অতঃপর বিভিন্নজন ভিডিওটি শেয়ার করতে থাকলে তা ভাইরাল হয়ে যায়। ওই ভিডিওতে ‘মোর ঘুম ঘোরে এলে মনোহর’ শিরোনামে একটি নজরুলগীতি গাইতে দেখা যায় সাম্যকে।

তার কণ্ঠে গান ভাইরাল হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার গান শোনার জন্যই শ্রোতারা বসে থাকেন। এই সিক্রেট সুপারস্টার গান নিয়ে বর্তমানে ব্যস্ত থাকলেও ভবিষ্যতে হতে চায় ডাক্তার; সেই সঙ্গে গানটাও চালিয়ে যেতে চায়। সবকিছু ছাপিয়ে সাম্য বড় হয়ে রুনা লায়লার মতো দেশবরেণ্য কণ্ঠশিল্পী হতে চায়।