‘শিশুসাহিত্যকে অবহেলার দৃষ্টিতে দেখার কোনো সুযোগ নেই’

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯ মার্চ ২০১৯ , ০৯:৩৪ এএম
‘শিশুসাহিত্যকে অবহেলার দৃষ্টিতে দেখার কোনো সুযোগ নেই’

বতর্মান সময়ের জনপ্রিয় শিশুসাহিত্যিক আবেদীন জনী। তিনি দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও সাময়ীকীতে নিয়মিত লিখছেন। লেখালেখির স্বীকৃতি স্বরূপ এরই মধ্যে কিছু পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন। তার লেখা উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘ছড়ার মেলা রঙের খেলা’, ‘রায়ানের ঘুড়ি ও বানরবন্ধু’, ‘মায়ের গল্প’, ‘শিয়ালপরি’, ‘মিঠেকড়া একশ ছড়া’ ও ‘ছন্দে ছড়ায় নীতিকথা’। শিশুদের এই প্রিয় লেখক শিশুসাহিত্যের নানা বিষয়ে কথা বলেছেন। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাসুমা রুমা-


মাসুমা রুমা: প্রথমেই জানতে চাইব, একজন লেখক এবং একজন সাধারণ মানুষের মধ্যে আপনি কী কী পার্থক্য খুঁজে পেয়েছেন?

আবেদীন জনী: লেখক যেহেতু মানুষ, তাই একজন লেখকের ভেতরে একজন সাধারণ মানুষও বাস করে। কিন্তু সব সাধারণ মানুষের ভেতরে লেখকগুণসম্পন্ন একটা সত্ত¡া বাস করে না। একজন লেখক বা সাহিত্যিক সাধারণ মানুষের বা সব পথ ও মতের মানুষের শক্তিশালী প্রতিনিধি। লেখক মানুষ সাধারণ মানুষের তুলনায় অনেক বেশি সংবেদী ও সৃজনশীল। লেখক বা সাহিত্যিকগণ সাধারণ মানুষ থেকে বা তাদের পারিপার্শি¦ক পরিবেশ থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করে, সেগুলো প্রয়োজনমাফিক প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে সাহিত্যজাত শিল্পে রূপান্তর ঘটাতে পারে। হয়তোবা বলা যায়, লেখক তার সৃষ্টি, বিশেষ নীতি , আদর্শ বা চিন্তাসমূহকে অজস্র মানুষের মধ্যে বা সমাজে, রাষ্ট্রে কিংবা বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত করার মতো অতিপ্রাকৃত মেধাসম্পন্ন মানুষ। সাধারণের মধ্যে এমনটা নেই। আরও অনেক পার্থক্য থাকতে পারে। যত পার্র্থক্যই দৃষ্টিগোচর হোক, একজন লেখকের তুলনায় একজন সাধারণ মানুষকে খাটো করে দেখা ঠিক হবে না। কারণ, লেখক সমাজের বাইরের মানুষদের মধ্যে অন্য কোনো বিষয়ে বিদগ্ধ, প্রতিভাসম্পন্ন অসাধারণ মানুষও আছে।

মাসুমা রুমা: আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে অনেকেই শিশুসাহিত্যকে অবহেলার দৃষ্টিতে দেখেন। বিষয়টিকে আপনি কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

আবেদীন জনী: শিশুসাহিত্যকে অবহেলার দৃষ্টিতে দেখার কোনো সুযোগ নেই। যারা দেখছেন, তারা ভুলভাবে দেখছেন। আমি একজন শিশুসাহিত্যিক বা শিশুসাহিত্য শ্রমিক বলেই যে সাহিত্যের এই শাখাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি, তা নয়। একজন প্রকৃত লেখক কিংবা সচেতন পাঠক সব সময়ই শিশুসাহিত্যকে সাহিত্যের সমৃদ্ধ শাখা হিসেবেই ভাবে। এর গুরুত্ব কোনোভাবেই কম নয়।
শিশুতোষ ছড়ার কথা যদি বলি, আমার মতে, শিশুর সবুজ সুকোমল কাদামাটির হৃদয়ে সবচেয়ে ক্রিয়াশীল, ছোট ছোট স্বপ্নরঙিন, আনন্দ জাগানি আলোড়ন তোলা শব্দ-ছন্দ-অন্ত্যমিলের শৈল্পিক সমন্বয়ে ঝলমলে সোনারোদ্দুরের মতো স¦প্নীল সুন্দর, নিখাদ যে সৃষ্টি, তাই শিশুতোষ ছড়া। ছড়া শিশুর মনোভূমির স্বপ্নসড়ক কিংবা স্বপ্নবীজ।

লোকসাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন, প্রাচীনতম সৃষ্টি হচ্ছে ছড়া। বর্ণমালা বা লেখার কোনো প্রকার সাংকেতিক চিহ্ন সৃষ্টিরও অনেক অনেক পূর্বে ছড়ার সৃষ্টি। তখন আদিম মানুষ মুখে মুখে কথায় কথায় ছড়া কাটত। শ্লোক বলত। তবে কোথায়, কবে, কোন অতীতে, কার মাধ্যমে পৃথিবীর প্রথম ছড়ার সৃষ্টি হয়েছিল, সে ইতিহাস অজানা। কিন্তু একথা বলা যায় যে, ছড়াই সাহিত্যের সবচেয়ে আদিম রূপ।
উল্লেখযোগ্য প্রায় সব ভাষারই ছড়া আছে। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম বাংলা ভাষার ছড়াসাহিত্য। বাংলা ছড়া অত্যন্ত শক্তিমান। ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনে ছড়া উৎকৃষ্ট প্রভাবক হিসেবে ম্যাজিকগতিতে বা এন্টিবায়োটিকের মতো কাজ করে। ছড়াই মূলত সর্বপ্রকার সাহিত্যের মূল। সমালোচকদের একঘঁয়েমি মতামত বাদ দিলে ছড়াসাহিত্যের অবস্থান সবার ওপরে।

ছড়া লেখা সহজ কাজ নয়। আমার ধারণা, ছড়াকারগণ এ কথা স্বীকার করবেন নির্দ্বিধায়। রবীন্দ্রনাথও স্বীকার করেছেন। বিশেষ করে শিশুতোষ ছড়া (কিশোর কবিতার ক্ষেত্রেও) অত্যন্ত সতর্ক দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন। ছন্দ, মাত্রা ও অন্ত্যমিল ছড়ার প্রাণ। অনেক সময় ছন্দ-মাত্রা এবং অন্ত্যমিল ঠিক থাকলেও মুক্তাক্ষর, বদ্ধাক্ষর কিংবা শব্দ বা বাক্যের মধ্যখÐনজনিত সমস্যার কারণে লেখাটি পাঠে তীব্র হোঁচট খেতে হয়। তখন লেখাটি ছড়ার বৈশিষ্ট্য হারিয়ে ফেলে।

শিশুতোষ ছড়া হতে হয় সুকোমল। (কিশোর কবিতা হতে হয় কোমল।) শিশুদের কোমল নরম মনের স্বপ্নসাঁকো শাব্দিক ঝড়-ঝাপটায় যেন নড়ে না ওঠে। ওদের মনস্তাত্তি¡ক পরিমÐলে যেন বিরূপ প্রভাব না পড়ে। বিকাশমান সৃষ্টিশীল চেতনার পথগুলো যেন রুদ্ধ না হয়। মগজের কোষে যেন বিরুদ্ধ বাতাস আঘাত করতে না পারে। তবে হ্যাঁ, যে সমাজে শিশুরা বেড়ে উঠছে, সেই সমাজে ঘাপটি মেরে বসে থাকা কুসংস্কার থেকে মুক্ত করতে, স্বপ্নখেকো অন্ধকার থেকে আলোর দিকে ফিরিয়ে আনতে ওদের মানসজগতে মৃদু শাব্দিক টোকা দেওয়া বা জাগরণের মৃদু স্পন্দন তোলা যায়। তবে সেটাও করতে হবে অত্যন্ত সচেতনভাবে। নিখাদ পরীক্ষা-নিরীক্ষা, বিশ্লেষণের মাধ্যমে। কাঁচা মস্তিষ্কের কতটুকু ধারণক্ষমতা এবং হাসতে হাসতে, খেলতে খেলতে, নাচতে নাচতে কতটুকু গ্রহণ করতে পারবে- সে বিষয়েও লেখকের সুচারু মনস্তাত্তি¡ক বিশ্লেষণ থাকা জরুরি। একারণেই রবীন্দ্রনাথ বলেছেন,
‘সহজ ভাষায় লিখতে আমায় কহ যে
সহজ করে যায় না লেখা সহজে।’
আর ম্যাক্সিম গোর্কির কথাটা এ রকমÑ সাহিত্য কঠিন কাজ। আরও কঠিন শিশুসাহিত্য।
যদিও কথাটা একটু কঠিন হয়ে যায়, তবুও বলব, যারা এই সহজ ভাষার ছড়াসাহিত্য বা শিশুতোষ গল্প-উপন্যাস লিখতে ব্যর্থ হয়, তারাই মূলত অবহেলা- অবমূল্যায়ণের মাধ্যমে শিশুসাহিত্যকে এড়িয়ে যায় এবং নিজস্ব ব্যর্থতাটুকু ঢাকার চেষ্টা করে।

মাসুমা রুমা: শিশু সাহিত্য নিয়ে কাজ করতে গিয়ে কী কী অভিজ্ঞতা অর্জন করলেন?

আবেদীন জনী: শিশুসাহিত্য নিয়ে যতটুকু কাজ করেছি, তাতে আমি যে খুব বেশি অভিজ্ঞতা অর্জন করে ফেলেছি, তা বলা যাবে না। একটা বিষয় দেখলাম যে, অনেকেই নিজেকে শিশুসাহিত্যিক বলে পরিচয় দেন, কিন্ত তারা মূলত শিশুসাহিত্যিক না। তারা তাদের লেখাগুলো শিশুসাহিত্য হিসেবে চালিয়ে দিচ্ছেন। এতে শিশুরা ওদের উপযোগী লেখা পাঠ থেকে বষ্ণিত হচ্ছে। এটা শিশুদের মনোবিকাশের জন্য ক্ষতিকর। একটা মেধাবী প্রজন্ম গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে বড় বাঁধা। আবার কেউ কেউ আছেন, ছড়ার মতো কিংবা গল্পের মতো দু-চারটে লিখেই হয়ে গেছেন মহান শিশুসাহিত্যিক। বড় বড় সাহিত্যসভার বিদগ্ধজন। তুখোর বক্তা। শিশুসাহিত্য নিয়ে কাজ করতে এসে আরো একটা বিষয় খেয়াল করেছি। অনেক উচ্চশিক্ষিত মানুষ, যারা দেশের নামকরা বিদ্যাপিঠ থেকে বের হয়ে এসেছেন, তাদের কারো করো মধ্যে একটা ভুল ধারণা প্রচলিত। তারা মনে করেনÑ সাহিত্যাঙ্গনে যারা নতুন আসেন, তারাই শিশুসাহিত্য নিয়ে কাজ করেন। একবার আমাকে একজন প্রশ্ন করলেন, আপনি কী নিয়ে লেখালেখি করছেন? উত্তরে আমি বললাম, ‘শিশুসাহিত্য নিয়ে। শিশুদের ছড়া, গল্প লিখছি।’ লোকটি বললেন, ‘ও, আচ্ছা, তাহলে কেবলমাত্র শুরু করেছেন ? এইভাবে লিখতে লিখতে শিখতে শিখতে একদিন বড়দের সাহিত্যও রচনা করতে পারবেন।’ অভিজ্ঞতার সবগুলো বলতে গেলে লেখা অনেক দীর্ঘ হয়ে যাবে। সবচেয়ে বড় অভিজ্ঞতা হলো, শিশুদের আনন্দের জায়গাগুলো সম্পর্কে দিন দিন নতুন নতুন ধারণা পাওয়া।

মাসুমা রুমা: লেখক-পাঠকের সম্পর্ককে আপনি কিভাবে দেখেন?

আবেদীন জনী : আমি মনে করি, লেখক-পাঠক সম্পর্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। তবে এই দুটি পক্ষের সাথে সরাসরি বা প্রত্যক্ষ সম্পর্ক খুব একটা থাকে না। পরোক্ষভাবে থাকে। লেখকের সাথে সম্পর্ক সৃষ্টি হওয়ার আগে তার লেখার সাথে পাঠকের সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। সম্পর্ক সৃষ্টি হওয়ার পেছনে লেখাই প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। লেখকরা জ্ঞানের উদ্ভাবক বা আবিষ্কারক। তাঁঁরা সময়ের থেকে এগিয়ে। তাঁদের সৃষ্ট জ্ঞান সমকালের পাঠকদেরই শুধু আকৃষ্ট করে না, শতাব্দী থেকে শতাব্দী অতিক্রম করে দূর ভবিষ্যতের পাঠকদের কাছেও সমাদৃত হয়। তাই লেখকের সাথে শুধু তার সময়ের পাঠকদের সাথে সম্পর্ক থাকবেÑএমনটা নয়। লেখক যখন পৃথিবী থাকবেন না, তখনও সেই সময়কার পাঠকের সাথে লেখার মাধ্যমে লেখকের সম্পর্ক হতে পারে। যেমন- হোমারকে এখনও আমরা পড়ছি। কার্ল মার্কস বর্তমানে সর্বাধিক আলোচিত ব্যক্তিদের একজন। কিন্তু লেখকরা সব সময় পাঠকদের সাথে সম্পর্ক সৃষ্টির উদ্দেশে লেখেন না। তারা লেখেন মনের তাড়না থেকে। ক্ষুধা থেকে। মানসজমিনে উৎপাদিত জ্ঞান-শস্যের বহি;প্রকাশ ঘটিয়ে আনন্দ পান। সেই জ্ঞান-শস্য যখন পাঠকের মনের ক্ষুধা নিবারণ করে, তখনই লেখক-পাঠক সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। লেখক হচ্ছে আত্মনির্ভরশীল। লেখক জ্ঞান অর্জন করেন প্রকৃতি থেকে। কিন্তু পাঠক নিত্য নতুন জ্ঞান অন্বেষণে লেখকের উপর নির্ভরশীল। এটাও ঠিক যে , লেখক পাঠক ছাড়া বাঁচতে পারে না। কিন্তু পাঠক তার প্রয়োজনেই লেখককে বাঁচিয়ে রাখেন। অন্তর্জগতে স্থান দেন।

মাসুমা রুমা: একজন লেখককে কতটুকু মানবিক হতে হয়?

আবেদীন জনী : মানবিক না হলে তাকে তো মানুষ বলা যায় না। তার শুধু মানুষের মতো শারীরিক কাঠামো আছে। কিংবা বলা যায়, সে অসম্পূর্ণ মানুষ। একজন লেখককে আগে একজন উৎকৃষ্ট মানুষ হওয়া জরুরি। তারপর লেখক। একজন মানুষ লেখক না হলেও সমস্যা নেই। কিন্তু মানুষকে মানবীয় গুণাবলি সম্পন্ন হতেই হবে। যতটুকু মানবিকতা মানুষকে মহান করে তোলে, একজন লেখকের ততটুকুই মানবিকতা থাকা প্রয়োজন। লেখক যত বেশি মানবিক হবে, তার সৃষ্টিকর্ম তত বেশি গ্রহণযোগ্য, পাঠকপ্রিয় এবং অর্থপূর্ণ হবে। ব্যতিক্রম হচ্ছে, মানবিকতা সম্পন্ন কিছু ভাল লেখকও পাঠকপ্রিয় হন না।

মাসুমা রুমা: নবীন লেখকদের প্রতি প্রবীণ লেখকদের মনোভাব কেমন হওয়া উচিত আর আমাদের দেশে এ বিষয়ক চিত্রপটটা কেমন?

আবেদীন জনী: অবশ্যই ইতিবাচক হওয়া উচিৎ। আমাদের দেশের নবীন বা তরুণ লেখকদের প্রবীণরা খুব একটা মূল্যায়ন করেন না। বেশির ভাগ প্রবীণ লেখক নিজের কীর্তিকেই বড় মনে করেন। কোনো কোনো নবীন বা তরুণ কোনো কোনো প্রবীণের চেয়েও ভালো লিখছেনÑএটা তারা মানতে চান না। অনুজদের বই তারা পড়েন না বললেই চলে। আশার কথা হচ্ছে, সব প্রবীণ নবীন বিমুখ নন। এমন কিছু প্রবীণ এবং মহৎ লেখক আছেন, যারা সব সময় নবীনদের প্রশংসা করেন। উৎসাহ দেন। উত্তরোত্তর সমৃদ্ধির জন্য দেন উপযুক্ত পরামর্শ। আমিও পেয়েছি। পাচ্ছি।

মাসুমা রুমা: শিশুদের সাইকোলজি বুঝতে কী কী করেন?

আবেদীন জনী: এটা খুব কঠিন কাজ। শিশুসাহিত্যিকরা এই কঠিন কাজটাই করতে ভালবাসেন। শিশুদের সাইকোলজি বুঝতে একেকজন লেখক হয়তোবা একেক পদ্ধতি গ্রহণ করে থাকেন। আমি সময় পেলেই শিশুদের সাথে মেশার চেষ্টা করি। নিজেও শিশু হয়ে যাই। শিশুদেরকে নানা রকম প্্রশ্ন করি। ওরা কী করে, কীসে আনন্দ পায়, মনোযোগ দিয়ে বোঝার চেষ্টা করি। এছাড়া শিশুসাহিত্য বিষয়ক প্রচুর বই তো পড়তেই হয়।

মাসুমা রুমা: পত্রিকায় নিয়মিতই আপনার লেখা প্রকাশিত হয়। পত্রিকায় লেখা ছাপানোর প্রবণতাটা মূলত কীভাবে তৈরি হলো?

আবেদীন জনী : পত্রিকায় লেখা ছাপানোর প্রবণতাটা তৈরি হয়েছে ইশকুল জীবনে। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় আমার লেখালেখি শুরু। তখন একই ইশকুলে, সম্ভত আমার দুবছরের সিনিয়র ছাত্র ছিলেন বর্তমানে দুবাই প্রবাসী কবি মাহমুদ নজীর। তখন তার কবিতা ঢাকার পত্রিকায় ছাপা হচ্ছে। ছাপা হওয়ার আনন্দটা তিনি আমার কাছে প্রায়ই প্রকাশ করতেন। আমাকেও পত্রিকায় কবিতা পাঠাতে উৎসাহ দিতেন। তখন আমিও কবিতা পাঠাতে শুরু করি। প্রকাশ হতে থাকে স্থানীয় এবং ঢাকার জাতীয় পত্রিকাগুলোতে। সেই থেকে পত্রিকায় লেখা ছাপানোটা যেন এক প্রকার নেশায় পরিণত হয়। এস এস সি’র পর থেকে প্রচুর লেখা ছাপা হতে থাকে। তখন সপ্তাহে দু-তিনটা লেখা ছাপা না হলে ভাল লাগত না। সেই নেশাটা এখনো রয়ে গেছে। এখনো একটা লেখা ছাপা হলে যতটা আনন্দ পাই, ততটা অন্য কিছুতে পাই না।

মাসুমা রুমা: আমাদের দেশে পত্রিকার শিশুপাতাগুলো কতটুকু মানসম্মত বলে আপনার ধারণা?

আবেদীন জনী: সবগুলো না , তবে এদেশের বেশ কিছু পত্রিকার শিশুপাতা সমৃদ্ধ। উৎকৃষ্ট মানের। সম্পাদকরাও দক্ষ। তারা অনেক হিসেব করে লেখা ছাপেন। একবার একটি জাতীয় দৈনিকের শিশুপাতার সম্পাদক আমাকে ফোন করলেন। তিনি আমার একটি শিশুতোষ গল্প নির্বাচন করেছেন। কিন্তু গল্পটিতে একটু সমস্যা আছে বলে জানালেন। গল্পটির এক পর্যায়ে বাঘ হরিণকে আক্রমণ করে। এতে হরিণটি আহত হয়। তিনি এই অংশটুকু পরিবর্তন করে দিতে অনুরোধ করলেন। কারণ, শিশুতোষ গল্পে কোনো নেতিবাচক বিষয় তারা গ্রহণ করেন না। আমি পরিবর্তন করে দিলাম এবং মনে মনে ভাবলাম, শিশুসাহিত্য এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কিছু সংখ্যক শিশুপাতা আছে খুবই নি¤œমানের। ওই পাতাগুলোর সম্পাদকরা যা ইচ্ছে তাই ছাপেন। ছড়ার শব্দ- ছন্দ- অন্ত্যমিল, বিষয় ঠিক আছে কি না, শিশু উপযোগী কি না এবং গল্প হলে তা শিশুদের জন্য কতটুকু ইতিবাচক, তা বিচার বিশ্লেষণ না করেই প্রকাশ করেন।

মাসুমা রুমা: আপনি কি মনে করেন- শিশুপাতায় লেখা প্রকাশে সম্পাদকরা স্বজনপ্রীতিকে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন?

আবেদীন জনী: লেখকদের অনেকে এ ধরনের অভিযোগ করছেন। এ অভিযোগকে একেবারে ভিত্তিহীন বলব না। স্বজনপ্রীতি কিছুটা থাকতে পারে। তবে সব সম্পাদককে এ অভিযোগে অভিযুক্ত করা যাবে না। আসল ব্যাপার হচ্ছে, অনেক লেখক আছেন, যারা শিশুপাতায় প্রকাশের জন্য লেখা পাঠান। কিন্তু সেগুলো ছাপানোর যোগ্য না। তারাই সম্পাদকের বিরোধ্যে না বুঝে অভিযোগ করেন। আমার কথা হলো, একজন প্রকৃত সম্পাদক ভালো লেখা পেলে ছাপতে কার্পণ্য করেন না।

মাসুমা রুমা: ‘ছড়া ৭১’ নামে একটি ছড়াগ্রন্থ সম্পাদনা করতে যাচ্ছেন আপনি। কী ভাবনা থেকে এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন?

আবেদীন জনী: বাংলা ভাষায় রচিত অন্যতম একটি শিশুতোষ ছড়া সংকলন আমাদের কোমলমতি শিশুদের উপহার দেওয়ার ভাবনা থেকেই ‘ছড়া ৭১’ সম্পাদনা করতে যাচ্ছি। এ কারণেই নেতিবাচক শব্দ বর্জিত, ধর্ম ও রাজনীতি মুক্ত ছড়া আহŸান করেছি। জানি না কতটুকু সফল হব।

মাসুমা রুমা: এর আগেও কি সম্পাদনার কাজ করেছেন?

আবেদীন জনী : হ্যাঁ, করেছি। যখন আমি ¯œাতক সম্মানের ছাত্র, তখন ‘শিকড়’ নামে সাহিত্যের একটি ছোট কাগজ সম্পাদনা করতাম। যদিও সেটা অনিয়মিত ছিল। তারপর সম্পাদনা করেছি ‘ছড়ার মেলা রঙের খেলা’ ছড়াগ্রন্থ। এটি অমর একুশে গ্্রন্থমেলা ২০১২ সালে সাহিত্য বিকাশ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

মাসুমা রুমা: সঠিক সম্পাদনার জন্য কোন কোন বিষয়ে মনোযোগী হতে হয়?
আবেদীন জনী : যা সম্পাদনা করব, সেই বিষয়ে যত জানা থাকবে ততই মঙ্গল। এ ছাড়া ভাষাজ্ঞান, ব্যাকরণগত জ্ঞান, বানানরীতি ইত্যাদিতে দক্ষ হতে হবে। সময়ের সাথে সাথে ভাষাও পরিবর্তন হয়। অনেক কিছু সংযোজন-বিয়োজন ঘটে। সেদিকেও সম্পাদকের দৃষ্টি থাকা দরকার।

মাসুমা রুমা: সম্পাদক আর লেখকের মধ্যে মিলের জায়গা কোথায়?

আবেদীন জনী: লেখক ও সম্পাদক দুজনই সৃজনশীল। লেখক তার সৃজনশীল শক্তি প্রয়োগ করে সাহিত্য নামের শিল্প সৃষ্টি করেন। আর সম্পাদক তার সৃজনশীলতার সবটুকু প্রোজ্জ্বল রোদ্দুর মেখে শিল্পটাকে পাঠকের সামনে উপস্থাপন করেন। বিদগ্ধ লেখকের মতো সম্পাদকও সাহিত্যের কলকব্জাসমূহ আয়ত্ব করা প্রদীপ্ত মানুষ।

মাসুমা রুমা: পেশাগত জীবনে কী করছেন?

আবেদীন জনী : শিক্ষকতা করছি। আমি একজন কলেজ শিক্ষক।

মাসুমা রুমা: আপনি পারিপার্শ্বিক পরিবেশ থেকে লেখার উপাদান সংগ্রহের কথা বলছিলেন। আপনার লেখায় বাস্তবতা নাকি কল্পনা কোনটি বেশি প্রাধান্য পায়?

আবেদীন জনী: বাস্তবতা এবং কল্পনাÑউভয়ের যথাযথ সংমিশ্রণেই আমার ছড়া ও গল্পের কাঠামো বিনির্মিত হয়। কোনো কোনো লেখায় বাস্তবতাটা বেশি। আবার কোনোটায় কল্পনা শক্তির আধিক্য। আমি বলতে চাই, যদি বাস্তবতার নিরিখে শিশুদের জন্য ভালো কিছু সৃষ্টি করা যায়, সেটাই মঙ্গল। তবে সৃষ্টিশীল কর্মকাÐে কল্পনাকে অগ্রাহ্য করা ঠিক হবে না। কারণ, অনেক কাল্পনিক বিষয় ভবিষ্যতে বাস্তব হয়ে উঠতে পারে ।

মাসুমা রুমা: শুধু ছন্দের বই পড়েই কি ছন্দ, মাত্রায় দক্ষ হওয়া সম্ভব?

আবেদীন জনী: ছড়া-কবিতা-গান চর্চার ক্ষেত্রে ছন্দের বই অবশ্যপাঠ্য। কিন্তু শুধুমাত্র বই পড়েই ছন্দ-মাত্রায় দক্ষ হওয়া অসম্ভব। প্রায়োগিক কলা-কৌশল সঠিকভাবে রপ্ত করতে নিয়মিত চর্চা চালিয়ে যেতে হবে। অভিজ্ঞদের কাজ থেকে পরামর্শও নেওয়া যেতে পারে। ছন্দ ভালোভাবে আয়ত্ত করতে পারলে ছন্দ নিয়ে ইচ্ছেমতো খেলা করা যায়।

মাসুমা রুমা: আপনি বললেন- কেউ কেউ তাদের লেখাকে শিশুসাহিত্য হিসেবে চালিয়ে দিচ্ছেন। বিষয়টি যদি আরও একটু পরিষ্কার করতেন।

আবেদীন জনী: আমি বলতে চেয়েছি যে,একটি বইকে যদি শিশুতোষ গল্পের বই বলি, তাহলে বইটির গল্পের শিরোনাম, গল্পের বিষয়, গল্প বলার ধরন, বাক্য গঠন, বাক্যের শব্দ সংখ্যা, গল্পের শব্দ সংখ্যা, শব্দের ব্যবহার, প্রচ্ছদ, অলঙ্করণÑসবকিছুই শিশুতোষ হতে হবে। ছড়ার বইয়ের ক্ষেত্রেও প্রায় একই রকম। কোন্ বয়সের শিশু বইটির পাঠক, সেটা নির্ধারণ করে দিলে আরো ভালো। কিন্তু এসব বিষয় বিচার বিশ্লেষণ ছাড়াই শিশুতোষ বই হিসেবে অনেক বই প্রকাশিত হচ্ছে। সেগুলো বিক্রিও হয়ে যাচ্ছে। চলে যাচ্ছে সবুজ কোমল শিশুদের হাতে। কারণ, শিশুরা তো রংবেরঙের ছবি দেখলেই আকৃষ্ট হয়। অনেক অভিভাবকও শিশুকে ভালো বই কিনে দেবার মতো সচেতন নন। এ সমস্যা সমাধানের জন্য সবার আগে লেখককে সচেতন হতে হবে। তারপর প্রকাশক, অভিভাবকÑপ্রত্যেককেই।

মাসুমা রুমা: লেখক জ্ঞান অর্জন করেন প্রকৃতি থেকে। তার মানে একজন লেখকের জন্য ভ্রমণ খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়?

আবেদীন জনী: অবশ্যই। ভ্রমণ বাস্তব জ্ঞান অর্জনে সবচেয়ে বেশি সহায়ক। বই পড়াটাও গুরুত্বপুর্ণ। এতে অল্প পরিশ্রমে, অল্প সময়ে, সহজে অনেক কিছু জানা সম্ভব হয়।

মাসুমা রুমা: প্রবীণ লেখকদের উৎসাহ নবীন লেখকদের পথচলায় কতটুকু সহায়ক হতে পারে বলে আপনার বিশ্বাস?

আবেদীন জনী : প্রবীণরা দীপ্ত। বিদগ্ধ মানুষ। প্রবীণ লেখকদের উৎসাহ নবীন লেখকদের পথচলায় অনেক মনোবল বাড়িয়ে দেয়। নবীনরা সমৃদ্ধ হয় অগ্রজদের অভিজ্ঞতালব্ধ উপযুক্ত পরামর্শে।

মাসুমা রুমা: কেবল বই নয়, শিশুদের প্রকৃতির সংস্পর্শে আনা খুব জরুরি। এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?

আবেদীন জনী: শিশুরা বেড়ে ওঠার সাথে সাথে প্রকৃতি থেকেই জীবন সম্পর্কে শেখে। প্রকৃতিই শ্রেষ্ঠ পাঠশালা। প্রকৃতিই শিক্ষক। আর আমরা সবাই ছাত্র। কিন্তু নানা সীমাবদ্ধতার কারণে শিশুরা প্রয়োজন মতো প্রকৃতির সান্নিধ্য পায় না। এ জন্য বইও জরুরি।

মাসুমা রুমা: একজন লেখকের যাতনার শেষ নেই। কিন্তু আনন্দের জায়গা কোনগুলো?

আবেদীন জনী: লেখকের আনন্দের জায়গাগুলো অন্যদের থেকে আলাদা। লেখক অন্যকে আনন্দ দিয়ে নিজে আনন্দ পায়। একটা গল্প, ছড়া, কবিতা বা অন্যকোনো লেখা যখন শেষ হয়, তখন এক প্রকার তৃপ্তি অনুভব হয়। যেন মাথা থেকে একটা বোঝা নেমে যায়। এই বোঝাটা লেখকের মাথায় কেউ তুলে দেয় না। এটা মগ্নতার ভেতর দিয়ে যেতে যেতে লেখকের আলোকিত আত্মার গভীরে কিংবা মগজের কোষে সৃষ্টি হওয়া মানুষ বা সমাজের প্্রতি দায়বদ্ধতার বোঝা। এই বোঝা লেখার মাধ্যমে নামিয়ে আনন্দ পাওয়া যায়। লেখকের আনন্দ নতুন কিছু সৃষ্টির মধ্যে এবং তা চারদিকের জনারণ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার মধ্যে।

মাসুমা রুমা: যেসব সম্পাদক লেখার সঠিক বিচার-বিশ্লেষণ না করেই লেখা প্রকাশ করেন তাদের হাত থেকে শিশু সাহিত্যকে রক্ষা করার সহজ উপায় কী হতে পারে?

আবেদীন জনী: খুব সহজ উপায় মনে পড়ছে না। শিশুসাহিত্যে অভিজ্ঞ, সচেতন এবং দক্ষ সম্পাদককে পাতার দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। আসল কথা হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে দায়িত্ববোধ সৃষ্টি হওয়া দরকার। আরেকটা বিষয় হলো, উপযুক্ত পারিশ্রমিক না পেলে একজন সুদক্ষ মানুষও দক্ষতার সবটুকু প্রয়োগ করতে পারেন না।

মাসুমা রুমা: তার মানে আপনি বোঝাতে চাইছেন- লেখা ভালো হলে সম্পাদক এমনিতেই লেখা ছাপাবে?

আবেদীন জনী: প্রকৃত সম্পাদক হলে ছাপাবেন। প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা বা সিদ্ধান্তের বিষয় জড়িত থাকলে ভিন্ন কথা। সে ক্ষেত্রে ভালো লেখা ছাপানো না হলেও সম্পাদক দায়ী নন। আবার কিছু কিছু সাহিত্যপাতায় লেখা ছাপানোর ছোটখাটো শর্তও থাকে। শব্দ সংখ্যা, লেখার বিষয় ইত্যাদি। যেমন, একটা পত্রিকার শিশুপাতার সম্পাদক ভূতের গল্প-ছড়া না পাঠাতে ঘোষণা দিয়েছেন। সেখানে উচ্চমানের গল্প বা ছড়া পাঠালেও ছাপানো হবে না, সেটা যদি শর্তের মধ্যে না পড়ে।

মাসুমা রুমা: আমাদের দেশে বানান সংক্রান্ত অনেক প্রকার জটিলতা আছে। এগুলো কীভাবে ম্যানেজ করেন?

আবেদীন জনী: আমার মনে হয়, বানান নিয়ে বাংলা ভাষা একটি কঠিন সময় অতিক্রম করছে। একেক জন একেক নিয়মনীতি অনুসরণ করছেন। নিয়ন্ত্রণহীন। আমাদের জাতীয় দৈনিকগুলোর বেলায়ও অনেকটা এ রকম। আমি সমস্যায় পড়লে ‘বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান’ (সম্পাদক জামিল চৌধুরী, প্রথম প্রকাশ ১৯ মাঘ ১৪২২) অনুসরণ করি। এখানেও কিছু শব্দের বানান নিয়ে বিতর্ক আছে। অভিধানে সমস্যার সমাধান না হলে বিভিন্ন জায়গায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত বা প্রচলিত বানানটি ব্যবহার করি। এতে বই ও পত্র-পত্রিকার সাহায্য নিতে হয়।

মাসুমা রুমা: পেশাগত ব্যস্ততার জন্য লেখালেখির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে কি?

আবেদীন জনী: না, আমার কোনো সমস্যা হচ্ছে না। এমন কিছু পেশা আছে যেসব পেশায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। কিন্তু শিক্ষকতা পেশাটা লেখালেখি চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে উপযুক্ত একটা পেশা বলে মনে হয়।

মাসুমা রুমা: সর্বশেষ জানতে চাইব- ছড়া লিখতে গিয়ে অনেকে বাংলা শব্দের সাথে ইংরেজি শব্দের মিশ্রণ করে ফেলছেন। এটাকে আপনি কীভাবে দেখেন?

আবেদীন জনী: এটা বেমানান। বিশেষ করে শিশুতোষ ছড়ায় বাংলার সাথে ইংরেজি শব্দের মিশ্রণ খুবই দূষণীয়। বাংলা ভাষা একটি পরিপূর্ণ ভাষা। সমৃদ্ধ ভাষা। আছে বিশাল শব্দ ভান্ডার। আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকলে এ দূষণ থেকে মুক্ত খাকা সম্ভব। তবে আমার মতে, যে শব্দগুলো ইংরেজি থেকে এসে বাংলা ভাষায় ঠাঁই নিয়েছে, বাংলা অভিধানের অন্তর্ভুক্ত, সেগুলো ব্যবহার করা যায়।
মাসুমা রুমা: সময় দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

আবেদীন জনী : আপনাকেও অজস্র ধন্যবাদ। শুভকামনা নিরন্তর।