শিশুর নাম ঠিক করতে ব্যতিক্রমি উদ্যোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৯ ডিসেম্বর ২০১৮ , ০৯:১৩ এএম
শিশুর নাম ঠিক করতে ব্যতিক্রমি উদ্যোগ

শিশুর নাম রাখা নিয়ে ভাবছেন? গুগল-ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম হলে কেমন হয়? সন্তানের নাম কী রাখবেন, তা নিয়ে অনেক নতুন মা-বাবা চিন্তায় থাকেন। কিন্তু সন্তানের নাম রাখার ক্ষেত্রে এখন তথ্যপ্রযুক্তি বা আইটির ক্ষেত্রগুলোর ব্যবহার বাড়ছে।

২০০৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর সুইডেনে জন্ম নেওয়া একটি শিশুর নাম রাখা নিয়ে ইন্টারনেটে ঝড় উঠেছিল। ওই শিশুর নাম রাখা হয়েছিল গুগল। পুরো নাম অলিভার ক্রিস্টিয়ান গুগল কাই। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ব্লগ ও প্রযুক্তি সাইটে ইন্টারনেট সার্চ জায়ান্টের নামে শিশুর নাম রাখায় নানা আলোচনা করা হয়। গুগলের পক্ষ থেকেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছিল। ওই শিশুর নাম গুগল রাখার পর গুগল কর্তৃপক্ষ এক পোস্টে তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে ব্লগ পোস্ট করে।

গুগল (Google) শব্দটির সঙ্গে এখন ইন্টারনেট দুনিয়ার প্রায় সবাই পরিচিত। বিশ্বের জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন হলো গুগল।

সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং নিয়ে কাজ করা গুগলের বাবা ওয়ালিদ ইলিয়াস কাই গুগলের প্রশংসা করেন। গাণিতিক গগল (Googol) থেকে নেওয়া হয়েছে গুগল (Google) শব্দটি। যার অর্থ ১-এর পর ১০০টি
শূন্য দিলে যা হয় তা–ই। গুগল কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেটের বিশাল তথ্যভান্ডারের বিশালতাকে উপলব্ধি করানোর জন্য Google নামটি ব্যবহার করেছিলেন।

শুধু গুগলই নয়, প্রযুক্তি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে শিশুর নাম রাখার ঘটনা আরও আছে। এর আগে ২০১১ সালে ইসরায়েলের এক দম্পতি তাঁদের কন্যাসন্তানের নাম রেখেছেন লাইক। লাইক মানে পছন্দ করা৷ ইংরেজি এই শব্দটির ব্যবহার বহুকালের। ফেসবুকে কিছু পছন্দ হলে, ভালো লাগলে বা কাউকে অনুসরণ করতে চাইলে, লাইক বোতামটি চেপে দিলেই হয়।

লাইকের বাবা লিওর এডলার এবং মা ভেরডিট গণমাধ্যমকে জানান, তাঁদের কন্যার জন্য এমন একটা নাম খুঁজছিলেন, যেটি হবে আধুনিক এবং অনন্য।

ফেসবুকে কোনো বন্ধুর স্ট্যাটাস, ছবি বা পোস্ট পছন্দ হলে যে কেউ লাইক করতে পারে। সেই লাইক শব্দটিকেই কন্যার জন্য বাছাই করেন লিওর এডলার। এডলারের কথায়, ‘এটা হচ্ছে কন্যাকে “ভালোবাসা” নামে ডাকার আমার নিজস্ব ধরন৷’

উইন্ডোজ ভিসতার কথা মনে আছে? মাইক্রোসফটের আলোচিত অপারেটিং সিস্টেম।

লাইকের জন্মের চার বছর আগে মাইক্রোসফটের নতুন অপারেটিং সিস্টেম ভিসতার নামে সফটওয়্যার নির্মাতা বিল সিমসার তাঁর মেয়ের নাম রাখেন ভিসতা সিমসার।

ডটকম যুগ শুরুর আগে এক মার্কিন দম্পতি তাঁদের সন্তানের নাম রেখেছিলেন ইন্টারনেট মিউজিক আর্কাইভ লুমার নামে।

পেশাদার নামকরণকারী প্রতিষ্ঠান ক্যাচওয়ার্ডের সহ-প্রতিষ্ঠাতা লরেল সাটন বলেন, শুধু প্রচারের কারণে নামকরণের বিষয়টি এখনো টিকে আছে। আনুষ্ঠানিক স্পন্সরশিপ ছাড়া কোনো ব্র্যান্ড চাইবে না তাদের নামে কেউ শিশুর নামকরণ করুক।

শিশুর নামকরণ নিয়ে ২০১৪ সালে মেক্সিকোতে অবশ্য একটি আইন পাস হয়, যাতে কেউ শিশুর নাম ফেসবুক রাখতে পারবে না বলে উল্লেখ করা হয়। এখন পর্যন্ত অবশ্য গুগল-ফেসবুক-মাইক্রোসফটের মতো প্রতিষ্ঠানের নামে আর কোনো শিশুর নামকরণের খবর পাওয়া যায়নি।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের এক নারী তাঁর মেয়ে অ্যালেক্সাকে নিয়ে বিপদে পড়ার কথা মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আমাজনের প্রধান নির্বাহী জেফ বেজোসকে বলেছেন। আমাজনের তৈরি ভার্চ্যুয়াল অ্যাসিসট্যান্ট সফটওয়্যারের নাম অ্যালেক্সা। ওই নারী অভিযোগ করেন, তাঁর মেয়ের নাম অ্যালেক্সা রাখায় অনেকেই তাঁর কাছে ভার্চ্যুয়াল সহকারীর মতো নানা প্রশ্ন করে বসে। কেউ কেউ বলে বসে, টিভি অন করো। কেউ বলে, আবহাওয়ার খবর বলো।

এর আগে টেলিগ্রাফ অনলাইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শিশুর নাম রাখার ক্ষেত্রে অনেকেই এখন পছন্দের প্রযুক্তি পণ্য, প্রযুক্তি শব্দকেই বেছে নিচ্ছেন। টেলিগ্রাফের তথ্য অনুযায়ী, শিশুর নাম হিসেবে ব্যবহৃত সেরা ১০টি প্রযুক্তি–সংশ্লিষ্ট শব্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছে, ‘অ্যাপল’ শব্দটি। প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান হিসেবেই অ্যাপলের পরিচিতি। গায়িকা ও অভিনেত্রী গিনেথ প্যালট্রো তাঁর মেয়ের নাম রেখেছেন ‘অ্যাপল’। অ্যাপলের তৈরি প্রিয় এমপিথ্রি প্লেয়ারের নাম থেকেই প্যালট্রো তাঁর মেয়ের নাম রেখেছেন অ্যাপল।

সেরা নামের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ‘আর্চি’। আর্চি মূলত সার্চ ইঞ্জিনের নাম। কম্পিউটার নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘ডেল’ সুপরিচিত। তবে এ ডেল নামটিই এখন অনেক শিশুর নামের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ‘ফেসবুক’।

তবে ফেসবুক এখন আর কেবল সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটই নয়; আরব বসন্তের পর মিসরের জামাল ইব্রাহিম তাঁর সন্তানের নাম রেখেছেন ‘ফেসবুক’। একইভাবে ফেসবুক–সংশ্লিষ্ট শব্দ ‘লাইক’ এখন অনেক শিশুর নাম হয়ে উঠেছে। যুক্তরাজ্যের প্রযুক্তি–সংশ্লিষ্ট শব্দ হিসেবে শিশুর নামের তালিকায় আরও স্থান পেয়েছে ‘লিংক’, ‘লারা’, ‘পিক্সেল’, ‘মারিও’ ও ‘হাল’।

এদিকে প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট পিসি ম্যাগ জানিয়েছে, ‘পার্ল’, ‘ম্যাক’, ‘রুবি’, ‘লিনাস’, ‘আডা’, ‘এলিস’, ‘জেসন’, ‘পেজ’, ‘পাসকল’ ও ‘পিসি’ নামটিও জনপ্রিয় নাম হতে পারে। নামের ক্ষেত্রে সম্প্রতি জনপ্রিয় আরও একটি প্রযুক্তি শব্দ হচ্ছে ‘হ্যাসট্যাগ’।