নিজের শিশুকেই যেভাবে হুমকির মধ্যে ঠেলে দিচ্ছেন

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৮ নভেম্বর ২০১৮ , ০৬:৩০ পিএম
নিজের শিশুকেই যেভাবে হুমকির মধ্যে ঠেলে দিচ্ছেন

বাঙালি পরিবারে আত্মীয়-স্বজনের ভিড় লেগেই থাকে। এ সময় আমরা অনেকেই বাচ্চাদের চাপ দিয়ে থাকি তাদের সঙ্গে চুম্বন করতে, তাদের শারীরিক অঙ্গভঙ্গি স্নেহ ভালোবাসার প্রতিদান দিতে।

বেশিরভাগ বাবা-মা তাদের শিশু সন্তানকে বোঝাতে চেষ্টা করেন যে `তারা শুরু তোমার জন্যই এসেছে`। এমনকি আমরা প্রায়ই কম পরিচিত কিংবা বন্ধুদের সঙ্গেও এটা করতে চাপ দিয়ে থাকি শিশুদের। তাদেরকে বুঝিয়ে দিই যে শিশুদের শরীরের ওপর আমাদের সবার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। কিন্তু একটি জিনিস আমরা প্রায়ই ভুলে যাই যে এসবের মাধ্যমে শিশুদের শরীরের নিরাপত্তাকে হুমকির মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়।

বাচ্চাদের স্পর্শ করার ক্ষেত্রে তাদের সম্মতি নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে কেউ সম্মতি না নিয়ে তাদেরকে স্পর্শ করতে পারে না। কেননা, এর মাধ্যমে শিশুরা যৌন নিপীড়ন ও শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হতে পারে। তাদেরকে বরং এই শিক্ষা দেওয়া উচিত যে এর দ্বারা কী ধরনের ভয়ংকর ঘটনা ঘটতে পারে। তাদেরকে আরো বুঝিয়ে দেওয়া উচিত যে কাউকে তারা আলিঙ্গন বা চুমুর সম্মতি দিতে পারে না।

যদিও এই চর্চাটি মোটেও সহজ নয়। তাই পরিবারে বড়দের ভেতর প্রথমে এই চর্চা করা উচিত। তাহলে তা দেখে শিশুরাও শিখবে। এ জন্য পরিবারের প্রত্যেককে এটি অনুসরণ করতে হবে।

কিন্তু যদি দেখেন আপনার কোনো আত্মীয় আপনার শিশু সন্তানকে আলিঙ্গনের চেষ্টা করছে এবং বিষয়টিতে শিশুটি অস্বীকার করছে তাহলে কী করবেন? এ ক্ষেত্রে বাচ্চাটিকে বলতে পারেন, `ঠিক আছে, যদি তুমি এটি না চাও তো কোনো সমস্যা নেই।`

মনে রাখবেন, আত্মীয়দের সঙ্গে আপনার বাচ্চার ভাবের আদান প্রদান যে সবসময় শারীরিক হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। এটি হতে পারে এমন যে, সে হয়তো তার প্রিয় কবিতাটি পড়ল, তার আঁকা ছবিটি দেখিয়ে কিংবা প্রিয় কোনো ভিডিও`র বিষয়টি শেয়ার করে। স্নেহের প্রকাশ যে শুধু আলিঙ্গন বা চুম্বন দিয়ে হতে হবে এমন তো কথা নেই।

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া